সুনীলদা ঠিকই বলেছিলেন, সবখানে...যে সঙ্গে থাকে সে-ই প্রকৃত বন্ধু। তাই কবি বেলাল চৌধুরী আমাদের সকলকে ছেড়ে তার প্রিয় বন্ধুদের কাছে চলে গেলেন।
“বেলাল তো শুধু কবি বা প্রাবন্ধিক বা সাংবাদিক নয়, সে আমাদের অনেক সময়ের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। যখন কয়েক বছর সে কলকাতায় ছিল, তার সঙ্গে কত অভিযানে গেছি, শুয়ে থেকেছি গাছতলায়। বাংলাদেশেও বহু স্থানে সফরে বেলালকে পেয়েছি। রাজদ্বারে এবং শ্মশানে (অথবা কবরস্থানে) যে সঙ্গে থাকে সে-ই প্রকৃত বন্ধু। বেলাল এর কোনওটাই বাদ দেয়নি। বেলালকে এখানে পেয়ে আমরা সবাই খুশি।”
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এমন আর কোন কবি আছেন আমাদের দেশে যিনি জন্ম থেকেই বিদ্রোহী। জীবনের শুরু থেকেই লড়াই করেছেন দুঃখ-দারিদ্র্যের সঙ্গে, আরেকটু বড়ো হয়ে তাঁকে ধর্মীয় বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরম্ভ করতে হয়েছিল। বাঙালী পল্টনের সেই হাবিলদার কবি তিন বছর পর যখন যুদ্ধ শেষে কলকাতায় ফিরে এলেন বিদ্রোহী বেশে এবং তার সে সময়কার রচিত দীর্ঘ বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে বিরাট আলোড়ন পড়েছিল। লোকের মুখে মুখে তখন শোনা যেত একটি নাম, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম ! এই কবিই পরবর্তীকালে জগতেব লাঞ্ছিত ভাগ্যহতদের জাগ্রত হবার জন্যে আহবান জানিয়েছিলেন। এই বিদ্রোহী কবির বিদ্রোহ, শুধু ইংরেজরাজেরই বিকদ্ধে ছিল না, তাঁর প্রথম বিদ্রোহ ভগবানের বিরুদ্ধে যার সৃষ্ট সংসারে অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার ও বৈষম্যের শেষ নেই। কবি বলেছেন :
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!

নিজেকে কবি জগদীশ্বর-ঈশ্বর ধরে নিয়ে লিখেছেন :
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন চিতে চেতন,
আমি বিশ্বতোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!! আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে। মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি আমি সেই দিন হব শান্ত!

এই বিদ্রোহ ঘোষণার পর থেকে কবিকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে গোলামির ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে, অসাম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, কুসংস্কার ও জাতির বজ্জাতির বিরুদ্ধে এবং ধর্মীয় অনাচাবের বিরুদ্ধে। আজীবন বিদ্রোহী কবির আকাঙ্খা এরপরও পূর্ণ হয়নি। উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোলের মধ্যে একান্ত রণক্লান্ত অবস্থাতেই তাকে চির বিদায় নিতে হয়েছিল।



আমার ছেলের বয়স পাঁচ বছর। এই বয়সেই সে আমাকে নানান ধরনের শিক্ষা দেয়। শিক্ষার কোন শেষ নেই তাই ওর কাছ থেকেও আমি শিখি।
টিভিতে যখন হাত উঁচু করা কালো চশমা আর কালো কোট পড়া লোকটার ছবি দেখে তখন সে বলে আব্বু দেখো "বঙ্গবন্ধু" । আমি বলি হ্যাঁ বাবা বঙ্গবন্ধু। লালা-সবুজের পতাকা দেখলে বলে "জয় বাংলা"। আমি বলি হ্যাঁ বাবা "জয় বাংলা"। আমি ওকে বলি জানো বাংলাদেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিলেন, যার দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল, আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিল, ভালোবাসতে জানতেন। দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিকচিক করে জ্বলে তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোৎস্নারাতে রূপালী কিরণধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি এবং নিশ্চয়তার বোধ জাগিয়ে তোলে তা হলো তার ভালোবাসা। জানো বাবা তাঁর নাম? শেখ মুজিবুর রহমান।
বহুবছর আগে আহমদ ছফা বলেছিলেন, একদিন এরকমভাবে কোন পিতা হয়ত শোনাবে পুত্রকে বঙ্গবন্ধুর গল্প। আমি সেটাকেই সত্য করে নিলাম মাত্র। ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাপ বেটার শ্রদ্ধা।

বইয়ের হাট

Saturday, March 10, 2018

প্রথমেই কৈফিয়ত, আমি লেখক নই। কিন্তু মনের কথা বলার এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আমার জানাও নেই।
click to view large image
রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরি প্রবন্ধে লিখেছিলেন; “হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাঁধা আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানবহৃদয়ের বন্যা কে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!” এখন এই লাইব্রেরি শব্দটি যদি বইয়েরহাট দিয়ে প্রতিস্থাপন করি তাহলেই আমি এখন যা বলতে চাই সেটি পরিস্কার হয়ে যায়। সংগঠন মানেই কোন স্বপ্নের বাস্তবায়নে কিছু মানুষের একত্রিত হওয়া। সেরকম কিছু বই পড়ুয়া পাঠক শুধু বলবো না, যারা নিজে ও অন্যকে পড়িয়ে আনন্দ পান এমন কিছু মানুষের চেষ্টায় আজ আমাদের এই পড়ার গ্রুপ। সম্প্রতি শ্রদ্ধেয় মীনাক্ষী দত্ত (বুদ্ধদেব বসুর কন্যা) তাঁর কলামে ( https://rit.one/Bx7mwm )আমাকে এবং বইয়ের হাটকে স্মরণ করেছেন। এ আমাদের অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি আমার কৃতজ্ঞতা তাঁকে ফোনালাপে জানিয়েছি। কিছু তথ্যগত এবং ছাপার ভুল রয়েছে, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না, উনি আমাদের স্মরণ করেছেন সেটাই বড় বিষয়। আবারও রবিঠাকুরের কথা বলবো, কারন এই ব্যাক্তি এমনভাবে আমার মাথায় চেপেছে যাকে ছেড়ে চলে যাবার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই। বরিঠাকুর বলেছেন; “...কৃতজ্ঞতা দিলে তাঁহাকে অল্প দেওয়া হয়, তাঁহাকে ফাঁকি দেওয়া হয়। তাঁহাকে বলা হয়, তোমার কাজ তুমি করিলে, আমার কর্তব্যও আমি সারিয়া দিয়া গেলাম। বরঞ্চ স্নেহের একপ্রকার অকৃতজ্ঞতা আছে, কারণ, স্নেহের দাবির অন্ত নাই। সেই স্নেহের অকৃতজ্ঞতাও সাতন্ত্র্যের কৃতজ্ঞতা অপেক্ষা গভীরতর মধুরতর।” তাই সেই স্নেহের দাবি নিয়ে তাঁকে অনুরোধ করছি আমাদের হাটেও নিয়মিত লিখুন। আমাদের সাহস দিন। আমাদের উৎসাহিত করুন। আশাকরি উনি কথা রাখবেন। যারা এই হাটের জন্য দিবারাত্রি ভেবেছেন, পাঠকদের জন্য বই জুগিয়েছেন, যাদের কারনে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আজ বইয়ের হাট হয়ে উঠেছে তাদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা রইলো। কিছু নাম না করলেই নয়, যেমন; সুমন দাস, সুমন বিশ্বাস, রাহুল বিদ, শিশির, ইয়াদিরা, গীতাদি, বন্দন দা, মলয় দা, কবীর ভাই, আয়নামতি, সুচিত্রা ঘোষ, গৌতম বসু, রনি আহমেদ, দুর্জন, সৌমেন্দ্র, স্বাতী জানা, সুচিত্রাদি, সুজয়দা, নায়লা নাজনীন, আইরিনদি, সাব্বিরদা, দুর্জয়, স্বপনদা সহ এরকম অনেকেই বইয়ের হাটের বাইরে ও ভিতরে রয়েছেন যাদের সবার নাম হয়ত বলে শেষ করা যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ কেউ বাদ পড়লে আশা করি ক্ষমা করবেন।
যেকোনো কাজে আমি অনুপ্রেরণা পাই সুমনের ঐ গানে;

তুমি দেখবে… তুমি দেখবে তুমি দেখবে
ওই দুটো হাত বাড়ালে,
কিছু হাত ওই হাত ধরবেই
তুমি তোমার মাটিতে দাঁড়ালেই।

দুনিয়ার পাঠক এক হও। সকলের মঙ্গল হোক।

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz