My year in reading

Wednesday, December 21, 2016

My year in reading.
Shoe Dog by Phil Knight
I think most memoirs are mediocre and if it’s from a businessman then it even worse. Shoe Dog by Phil Knight is an exception to that. I started reading it while on a flight to Bangladesh past september. At first I thought I will read it couple pages and start watching something and fall asleep. Instead, I read almost the entire book on the flight to Bangladesh. The memoir of the founder of Nike, it’s really the story of a lost kid trying to find meaning in his life and it ends with him creating a multi-billion dollar company. The afterward is an incredibly moving reflection of a man looking back on his life. In one sentence I loved this book. https://rit.one/ioMXHG

Algorithms to Live By: The Computer Science of Human Decisions by Brian Christian and Tom Griffiths.
A common misconception about computers is that they produce single, correct answers to hard problems. The reality is that much of computer science concerns itself with approximating answers to hard problems, because the single perfect answer, if it exists, would come too late to be useful -- possibly after the lifespan of the universe. Brian Christian and Tom Griffiths' Algorithms to Live By: The Computer Science of Human Decisions is pitched as a combination of personal advice and business book grounded in the lessons of computer science, but it's better than that: while much of the computer science they explain is useful in personal and management contexts, the book is also a beautifully accessible primer on algorithms and computer science themselves, and a kind of philosophical treatise on what the authors call "computational kindness" and "computational stoicism." https://rit.one/X1dUU0

Marxism and the Philosophy of Language by V. N. Volosinov
Language has been defined in a number of different ways: as a mental organ, a cognitive ability, a state of mind, as a system of signs, a computational procedure, as means of communication, or means of describing experience, and many others. This is Volosinov's important work, first published in Russian in 1929, had to wait a generation for recognition. If anyone has interest in language then this is a must read book which is available online for free. https://rit.one/TnErFp

How to Read Literature by Terry Eagleton
In this book Eagleton has many interesting things to say – as it were, in passing – about Conrad, Milton and so on, in a series of thematic chapters that focus in turn on "Openings", "Character", "Narrative", "Interpretation" and "Value". There are some longueurs, as when he devotes four pages to an elaborative reading of the nursery rhyme "Baa Baa Black Sheep" in order to show why such an interpretation is under-justified by the text, but overall it's an amiable affair. Charming, too, to find that Eagleton is a kind of happy existentialist who finds support for such an attitude in modernist (and proto-postmodernist) literature. "Works of fiction like Tristram Shandy, Heart of Darkness, Ulysses and Mrs Dalloway," he remarks with cheering optimism, "can serve to free us from seeing human life as goal-driven, logically unfolding and rigorously coherent. As such, they can help us to enjoy it more." https://rit.one/jBIHTI

THE GENE An Intimate History By Siddhartha Mukherjee
His Pulitzer prize winning book The Emperor of All Maladies: A Biography of Cancer leads me to read this new book on the gene. The gene is, and is not, the determiner of our identity. It behooves us to accept this paradox and understand it. As we learn how our genome defines us, we also learn how we transcend our genome. The gene, in the era of recombinant DNA, has become an instrument of its own manipulation. We have gene therapies and gene editing. In what Mukherjee calls the “post-genomic” world, we will wield a power as exhilarating as it is treacherous. Simply put, “We will learn to read and write our selves, ourselves.” https://rit.one/m4drcT
নানান ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের অনেকেরই বই পড়ার সময় হয়ে ওঠে না। তাই ঝটপট করে চলতি পথে কোনো বইয়ের আংশিক কিছু অংশ পড়ে ফেলা যায় তাহলে মন্দ হয় না। আসুন আজ পড়ি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী আনন্দধারার কিছু অংশ।

ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র। এর পরেই প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে কলেজে ঢোকার বছর। সেটা ছিল আমাদের অফ পিরিয়ড, অর্থাৎ যাকে বলে বিরতি—ঘণ্টা। সবাই হৈ চৈ করছে———কেউ কেউ গান করছে কোরাসে। আমিও গাইছিলাম। হঠাৎ রুদ্রমূর্তি নিয়ে ক্লাশে ঢুকলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই। সেদিন হেডমাস্টারমশাই আসেননি। সমস্ত ক্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল। উনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'কারা গান করছিল'? খানিকক্ষণ সব চুপ। আমি ধীরে ধীরে দাঁড়ালাম, বললাম, 'আমি স্যার'! এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আর কেউ দাঁড়াচ্ছে কিনা। না আর সব চুপ, শান্ত হয়ে বসে আছে। উনি বললেন, 'আমার সঙ্গে অফিসে এসো।'
গেলাম অফিসে। উনি রেজিস্টার খাতা বার করলেন। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না উনি কী করতে চান। তারপর লাল কালি দিয়ে দুটো কি তিনটে রেজিস্টার খাতায় আমার নামগুলো কাটলেন। বললেন, 'যাও, এবার গান গেয়ে বেড়াও। স্কুল থেকে তোমায় তাড়িয়ে দেওয়া হল।'

আমি অফিস থেকে বাইরে এলাম। ক্লাসের বন্ধুরা সব বাইরে দাঁড়িয়ে। সবাই শুনে অবাক। সবাই রাগে গজগজ করছে। আমাদের ক্লাসের দেবকুমার রায় একটু বেপরোয়া ধরনের ছেলে ছিল, (এখন দেবকুমার খুব বড় পুলিস অফিসার) সে সোজা চলে গেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাইয়ের কাছে। দেবকুমার বলল, 'স্যার, অন্যায় আমরা সবাই করেছি, তাহলে আমাদের সবাইকে তাড়ান। শুধু ওকে শাস্তি দিচ্ছেন কেন?'

উনি বললেন, 'গেট আউট।'
তারপর বই—খাতা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। সঙ্গে রমা, সুভাষ, শ্যাম সব বন্ধুরা বাড়ি পর্যন্ত এলো। রাস্তায় কারুর সঙ্গে কথা বলতে পারলাম না। শুধু ভাবলাম, যে কথা সবাই বলে তা যে এতো সত্যি তা আগে বুঝতে পারি নি। বলে———মিত্র স্কুল বড়োলোকদের স্কুল, তাদের সব মাপ। আমরা তখন ভীষণ গরিব। হাফ ফি—তে পড়ি। বাবা সাধারণ কেরানি। সত্যিকথা বলায় এত বড়ো শাস্তি! একটা ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিলেন! এ কেমন বিচার? যত বাড়ির কাছে আসতে লাগলাম ততই ভয় এবং কান্না ঠেলে আসতে লাগল। বাড়িতে ঢুকে চুপ করে বসে রইলাম। মা বললেন, 'কিরে কী হয়েছে? মুখখানা অমন শুকনো কেন?' মা স্নেহময় হাত পিঠে রাখতেই আর চোখেরজল আটকানো গেল না।
বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, 'স্কুল থেকে নাম কাটা গেল কেন?'

সেদিন কোনো কথা লুকোইনি বাবার কাছে। সব বললাম। বাবা শুনে বললেন, 'মাস্টারমশাই ছিলেন না বলে ক্লাসে বসে গান গাইবে? অন্যায় করেছ। কিন্তু তাই বলে অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই এতবড়ো শাস্তি দিলেন! ম্যাট্রিক পরীক্ষার আর মাত্র তিনমাস বাকি।'

আর দাঁড়াননি বাবা। আপিসের কাপড় আর ছাড়া হল না। বেরিয়ে গেলেন।

বাবা গিয়েছিলেন হেডমাস্টারমশাই—এর কাছে। ওঁকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, 'জানেনই তো আমার অবস্থা। সামান্য মাইনের কেরানি। একটা বছর নষ্ট হলে আমি মারা পড়ব। এ তো ছেলেকে শাস্তি দেওয়া নয় তার বাপের জরিমানা। এবারটা ওকে মাপ করে দিন।'

হেডমাস্টারমশাই সব শুনে সহানু)ভূতি দেখিয়েছিলেন। কিন্তু নিজে কিছু করতে পারেননি। বলেছিলেন, 'শাস্তিটা তো আমি দিইনি। দিয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই। ওঁকেই বুঝিয়ে বলুন।'

অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই শেষপর্যন্ত শাস্তিটা নাকচ করেছিলেন। কিন্তু তার জন্যে বাবাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। একরকম হাতে পায়ে ধরতে হয়েছিল, তবে ছেড়েছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই। বড় রুক্ষ, বড় কড়া মেজাজের মানুষ ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টারমশাই। ছেলেদের যদি ছুতোয়নাতায় একটু নাকানিচোবানি না খাওয়ালেন, তো কিসের মাস্টারিগিরি।

বাবা বাড়ি ফিরে যখন মাকে কথাটা জানালেন তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন মা। ঠিক সেই সময় আমার কান্না পাচ্ছিল। তবু কাঁদিনি———কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল ভেতর ভেতর চোখের জলটা যেন গড়িয়ে গড়িয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে আমার সারা মনটাকে। মনে হচ্ছিল কেন বাবা আমাকে মারলেন না। নিদেনপক্ষে একটা কড়া ধমক। আমারই জন্যে তো বাবাকে এত ছোটাছুটি করতে হল আপিস থেকে বাড়ি ফিরেই! আমারই জন্যেই তো বাবাকে এত অপমান সইতে হল। অথচ বাবা আমাকে কিচ্ছু বললেন না।

২০৪ বছরের পুরনো এই পাঠাগারটির নাম মাদ্রাজ লিটারারি সোসাইটি।

অবস্থান ভারতের দক্ষিণের নগর চেন্নাই, যা আগে মাদ্রাজ নামে পরিচিত ছিল।

পাঠাগারটিতে ৫৫ হাজারের বেশি বই রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সেগুলোর মধ্যে অনেক বই ১৫০ থেকে ৩০০ বছরের পুরানো।

পাঠাগারের বর্তমান ভবনটি লাল ইটের তৈরি, ১৯০৫ সালে নির্মিত ভবনটির সঙ্গে ব্রিটিশ আমল নিয়ে বানানো চলচ্চিত্রগুলোতে দেখানো ভবনগুলোর দারুণ মিল রয়েছে।

১৮১২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করে। কোম্পানির কর্মীদের প্রশাসন, ভাষা, আইন, ধর্ম এবং ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে শুল্ক’ আদায়ের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পাঠাগারটি স্থাপণ করা হয়েছিল।

ওই সময় পাঠাগারটির অবস্থান ছিল সেন্ট জর্জ দুর্গের ভেতর। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত পাঠাগারটি সেখানেই ছিল। ১৯০৫ সালে বর্তমান ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

পাঠাগারে থাকা প্রাচীনতম বইগুলোর একটি আইজ্যাক নিউটনের লেখা ‘ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিকস’- ১৭২৯ সালে বইটি প্রকাশ পায়।

এছাড়া ভারত ব্রিটিশ সম্রাজ্যের অধীনে থাকার সময় ভারতে দায়িত্ব পালন করা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা নিয়ে রচিত ‘দ্য হিস্ট্রি অব বাকিংহ্যাম ক্যানেল’-১৮৯৮ সালে বইটি প্রকাশ পায়।

যদিও প্রাচীন এইসব বইয়ের অনেকগুলোই অযত্নে-অবহেলায় চরম খারাপ অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

বেহাল দশার ওই সব বইগুলো রক্ষা করতে প্রতিটির জন্য ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার রুপি প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বইগুলো ধূলায় পরিণত হবে।

একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক পাঠাগারটি রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন।

তাদের একজন ৩৮ বছর বয়সী রাজিথ নায়ার।

জুনে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রথম যখন আমি বইয়ের তাকগুলো দেখি, আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।”

“আমি শুধু চলচ্চিত্রে এ ধরণের পাঠাগার দেখেছি। আমি ভাবতাম, শুধুমাত্র ইউরোপে এ ধরণের পাঠাগার ও জাদুঘর দেখতে পাওয়া যায়।”

তারপর থেকে অনেক তরুণ পাঠাগারটির সদস্য হন। তারা সক্রিয়ভাবে অন্যদের পাঠাগারটিতে নিয়ে আসেন।

পাঠাগারটি রক্ষা করতে তারা নানা রকম উদ্যোগ নেন। যেমন: সবার জন্য পাঠাগারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া, ‘অ্যাডপ্ট-এ-বুক’ ক্যাম্পেইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো।

২৬ বছর বয়সী হেরিটেজ কনসালটেন্ট থিরুপুরা সুন্দরী সেভেল। যিনি প্রতি শনিবার পাঠাগারে যান এবং বই সংরক্ষণে সাহায্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের বই সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

নতুন করে সংরক্ষিত বইগুলোর মধ্যে একটি কার্টুনের বই রয়েছে। প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট জেমস গিলারির আঁকা ওইসব কার্টুন ১৭৯৮ থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে প্রকাশ পায়।

গত বছর ভারতের লেখক কেআরএ নারাসিয়াহ বাকিংহাম ক্যানাল নিয়ে পত্রিকায় ধারাবাহিক লেখা লিখতে গিয়ে গবেষণা কাজে ওই পাঠাগারটিতে যান। সেখানেই তিনি প্রথম কার্টুনের বইটি দেখতে পান।

তিনি বলেন, “এটা একটি অসাধারণ আবিষ্কার। কার্টুনগুলোতে ওই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা বিশেষ কিছু, যেটিকে অবশ্যই পুনরায় জাগিয়ে তুলতে হবে।”

বর্তমানে পাঠাগারটির সদস্য সংখ্যা সাড়ে তিনশ এবং তারা বছরে সাড়ে আটশ রুপি চাঁদা দেয়।

কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, দ্রুতই এই সদস্য সংখ্যা হাজারের ঘরে পৌঁছাবে এবং পাঠাগারটিতে থাকা ইতিহাসের মূল্যাবান দলিল বইগুলো সংরক্ষণ করার স্বপ্ন পূরণ হবে।


Source http://bit.ly/2gpgPp9

Reading Paulo Coelho's The Spy

Monday, December 5, 2016


Mr. Coelho acknowledged:
Although I tried to base my novel on the actual facts of Mata Hari’s life, I had to create some dialogue, merge certain scenes, change the order of a few events, and eliminate anything I thought was not relevant to the narrative.

Coelho, Paulo. “The Spy.”

বব ডিলানের কবিতা
Motorpsycho Nightmare


অনুবাদ : সৈয়দ শামসুল হক
পথিকের দুঃস্বপ্ন অথবা মনোয়ারার স্বপ্ন
অথবা ফিদেল কাস্ত্রোকে অভিবাদন


কতকাল থেকে কতদিন থেকে
চলেই চলেছি আমি।
এখন অনেক রাত হয়ে গেছে
এখানে একটু থামি।


ওই দ্যাখা যায় জানালায় আলো,
হঠাৎ খামারবাড়ি।
কতকাল ঘুম হয়নি আমার -
দরোজায় কড়া নাড়ি।


দরোজাটা খুলে বেরিয়ে যে আসে
হাতে তার রামদা’!
মারমুখো তার ভঙ্গিটি আর
আমার আমতা আমতা।


রামদা’ ঠেকিয়ে আমার বুকে সে
বলে ভয়ানক স্বরে,
‘বাছাধন, আমি কোথাও তোমাকে
দেখেছি যে মনে পড়ে।


তুমি রাজনীতি কর মনে হয়,
বাম দিকে যেন ঝোঁক।’
ঢোঁক গিলে আমি বলি তাড়াতাড়ি,
‘ভুল করছেন লোক!


আমি তো পথিক, আমার এছাড়া
পরিচয় কিছু নেই।
শুধু এ রাতের আশ্রয় চাই -
আগমন হেতু এই।’


দুচোখ নাচিয়ে উঁকি দেয় মেয়ে,
মনোয়ারা তার নাম।
যেন সিনেমার পর্দায় আমি
চম্পাকে দেখলাম।
তার দিকে চোখ রেখে আমি তার
বাবাকে তোয়াজ করি -
‘এত সুন্দর আপনার বাড়ি!
মরে যাই! মরি, মরি!’


বাবা বলে, ‘থামো, তুমি তো পথিক!
বাড়ির তুমি কী জান!’
বললাম, ‘আমি কবিতাই লিখি,
সুরে বসালে তা গানও।


আমার নখের নিচে যে ময়লা
কসম দিচ্ছি তার - ’
দেখলাম যেন মনটি নরোম
হয়ে এল এইবার।


‘মনে হয় তুমি ক্লান্ত ভীষণ -
ঠিক আছে এসো ঘরে।’
কিন্তু এ কথা বলতেই হয়
ধূর্তামি ছিল স্বরে।
‘বিছানাটি পাবে ঘুমোবার, তবে
এই শর্তেই শুধু -
বিছানাই পাবে, চেয়ে বসবে না
তামাকের সাথে দুদু।’


ইশারাটি খুব আবছা তো নয় -
সরে যায় মনোয়ারা।
‘সকালে উঠবে, গাইটি দোয়াবে -
বিছানার এই ভাড়া।’


শুয়ে পড়তে না পড়তেই ঘুম
ভেঙে এল দুই চোখে।
আমি কতকাল ঘুমোতে পারিনি
নিহত দিনের শোকে।
হঠাৎ কী হলো? ঘরে কেউ এল?
চেয়ে দেখি মনোয়ারা।
অমাবস্যার রজনীতে যেন
খসেপড়া এক তারা।


‘পথিক, তুমি কি গোসল করবে?
সারা গায়ে কী যে ধুলো!’
হেসে বললাম, ‘ধুলো বলছ কী!
বন্ধু যে ওইগুলো।’


‘ধুলো বুঝি হয় বন্ধু কখনো?’
মনোয়ারা হেসে ওঠে।
আমি তো চাঁদের উদয় দেখেছি
কতবার কত ঠোঁটে।


এ জীবন জানি অমাবস্যার
একটানা এক রাত।
কোনোদিন যদি দিন আসে তবে
হতে পারে সাক্ষাৎ।


বেদনার মতো লাল দানাগুলো
ফেটে ফেটে পড়ে যায়।
নিঃশ্বাস ফেলে পাশ ফিরে আমি
ডুবে যাই বিছানায়।


ভোর হয়ে যায়। মনে পড়ে যায়
গাই দুইতে যে হবে!
বাবা বলে, ‘আরে, অদ্ভুত এ তো!
কথা কে রেখেছে কবে!’
নিশ্চয় এটি বদ্ধ পাগল!
ভাগ্যে খ্যাপেনি রাতে!
বললাম আমি, ‘এখনো অনেক
খবর রয়েছে হাতে।’


‘কী রকম শুনি?’ প্রশ্ন বাবার -
মুখখানা হাসি হাসি।
‘যেমন ধরুন - ফিদেল কাস্ত্রো
তাকে বড় ভালোবাসি।’


বলেই আমি তো বিদ্যুৎবেগে
সরে যাই, দেখি বাবা
কাস্ত্রোর নাম হতে না হতেই
তুলছে বিশাল থাবা।


থাবা মানে থাবা! বাঘের সে থাবা!
সরে গেছি এক পাশে।
নেমে আসে থাবা, ভাঙে আলমারি,
মনোয়ারা খুব হাসে।


‘হারামির হাড়! পথিক সেজেছ!
কমুনিস্ট তুমি শালা।
পৈতৃক প্রাণ খোয়াতে না হলে
ব্যাটা এক্ষুনি পালা।’


পালা মানে পালা! চোখের পলকে
হাজার মিটার পার।
দৌড়বাজিতে আমার চেয়ে কে
বাহাদুর খেলোয়াড়!


বহুদূর থেকে ভাঙচুর শুনি -
ভাঙে জানালার কাচ।
মড়মড় করে ভেঙে পড়ে যায়
খামারবাড়ির গাছ।


মনোয়ারা ডাকে চিৎকার করে -
‘ফিরে এসো, উন্মাদ।’
অমাবস্যার দীর্ঘ রজনী।
ফিরবে যে কবে চাঁদ?
আমি ফিরব না এইটুকু জানি
মাড়াব না ওই পাড়া।
গার্মেন্টসের চাকরিতে আছে
আজকাল মনোয়ারা।


এখনো বাবার থাবাটি শক্ত,
রামদায়ে বড় ধার।
ধড় থেকে মাথা আলাদা করবে
দেখা পেলে একবার।


লোকে বলে তাকে - ‘রাগ হবে সে তো
আমাদেরও রাগ হয়।
দাড়ি থাকলেও ফিদেল কাস্ত্রো
মুসলমান তো নয়!


তবে ওই কবি, ওই যে পথিক -
ওরা আরো ভয়ানক।
হাতে যে কলম দেখছ ওদের -
আসলে বাঘের নখ।’


এখনো সে আছে ভয়ানক রেগে
খামারবাড়িতে একা -
পৃথিবীতে কত খামারবাড়িতে
পাবে তুমি তার দ্যাখ্যা।


তোমাকে তাড়িয়ে পথে যে নামায়
কোটি কোটি হয় তারা।
তোমার জন্যে একটিই বাড়ি -
একটিই মনোয়ারা।


তোমার জন্যে একটিই চাওয়া -
কবিতা একটি এই :
কথা বলবার স্বাধীনতা, তার
কোনো বিকল্প নেই ॥

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz