ম্যাক্সিম গোর্কিকে লেখা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও মনীষী রম্যা রঁলার একটি চিঠির অংশবিশেষ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

‘...এক শীতের ভাটার টানে আপনার আবির্ভাব, যখন মহাবিষুবের লক্ষ্যে সবে বসন্তের মৃদু পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এই কাকতালীয় ঘটনাটি আপনার জীবনে গভীর অর্থবহ কারণ জীর্ণ-পুরাতন পৃথিবীতে জন্মেও নতুন বিশ্বের সঙ্কেত-ঝড়ে আপনি ক্রমবর্ধমান হয়েছেন। অতীত ও বর্তমান—দুই পৃথিবীর যোগসূত্রে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘ এক সেতুর মতো। আমি সেতুটিকে অভিনন্দন জানাই। এ সেতু আকাশচুম্বী। আমাদের নতুন প্রজন্ম যুগে যুগে শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে এই সেতুর দিকে তাকিয়ে থাকবে...।’

১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে নিঝনি-নভোগদের শ্রমিক আলেক্সি পেশকভ যখন ম্যাক্সিম গোর্কি ছদ্মনামে প্রথম গল্প লেখেন, তাঁর বয়স মাত্র চব্বিশ। ইতিমধ্যেই বিচিত্র জীবন ও জীবিকার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পাঠশালায় যে রুক্ষ, তিক্ত ও সুগভীর অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছিলেন, বিশ্বের খুব কম লেখকের ভাগ্যেই তা ঘটে। ম্যাক্সিম গোর্কির জীবন অগণিত পাঠকের কাছে সুবিদিত। শুধু একটি বিশেষ ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যা গভীর তাৎপর্যবহ। উনিশ বছর বয়সে, গোর্কি যখন কাজানে এক রুটি কারখানার শ্রমিক, লেনিনের নেতৃত্বে সেখানে এক ছাত্র-বিদ্রোহ ঘটে। এই বিদ্রোহ দমন করতে, ছাত্রদের ওপর আসুরিক বলে চড়াও হয় কাজানের রুটি-শ্রমিকরা, গোর্কি যাদের গভীর আস্থা নিয়ে বোঝাতেন সমাজ পরিবর্তনের কথা। গোর্কির আস্থাভাজন এই শ্রমিকরা যখন এই ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়, দুঃখে বেদনায় গোর্কি কাজাঙ্কা নদীর তীরে নিজের বুকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। সুখের বিষয়, গুলি তার ফুসফুস বিদ্ধ করতে পারে না এবং গোর্কিকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করলে, ঐ শ্রমিকরাই গভীর ভালোবাসা ও মমতা নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ায়। ঐসব শ্রমিকের মুখে গোর্কি লক্ষ করেন আগামী দিনের ইতিহাস। দেখতে পান সামাজিক পরিস্থিতি কেমনভাবে মানুষকে পশুত্বে পরিণত করে। সুতরাং জীবন-ধারার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন কর্মে নিয়োজিত করে, জীবনের এই বিপুল অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি স্থির থাকতে পারেন না, বাধ্য হন কলম ধরতে।
শুরুতে তিনি প্রধানত ভলগা অঞ্চলের কাগজপত্রেই লিখতেন এবং ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে গোর্কির প্রথম গল্পগ্রন্থ Sketches and Stones যখন প্রকাশিত হয়, রাতারাতি সারা দেশের পাঠক নতুন প্রতিভায় চমকে যায়। এরপর উপন্যাস Foma Gordeyev, The Three এবং নাটক The Lower Depth প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার খ্যাতি দেশ-কালের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব সাহিত্যের আঙ্গিনায় পৌঁছে যায়। গোর্কির Foma Gordeyev, টলস্টয়ের Resurrection-এর মতোই সমানভাবে রুশদেশে আলোড়ন ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

গোর্কির এই প্রথম পর্বের লেখায় একদিকে আমরা পাই সরল মানবিকতা, শ্রমিক, ভবধুরে, পতিতা—রাশিয়ার জনসাধারণের এক বৃহৎ অংশের দুঃখ-যন্ত্রণা, বঞ্চনা, হতাশা ও শোষণের ছবি, অন্যদিকে মালিক, ব্যবসায়ী, বিত্তবানদের স্থূল, লোভী ও সর্বগ্রাসী লুঠ ও ক্ষমতার চিত্র। এই চরিত্রগুলো গোর্কি এত গভীর ও আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, নাটক, উপন্যাস ও গল্পে তা জীবন্ত হয়ে উঠলো। My Travelling Companion, Twentysix Men and a Girl, Konovalov, Kolusha প্রভৃতি প্রথম পর্বের গল্পে এ ছবিগুলোই সুস্পষ্ট।

বিংশ শতাব্দীর সূচনায়, ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে, The Three উপন্যাসের মধ্য দিয়েই গোর্কির নতুন জীবন-দর্শন ও সাহিত্যের সূচনা লক্ষ করা হয়। তাঁর প্রথম পর্বের গল্প Old Izergil-এর রূপকাহিনীই বাস্তব পৃথিবীতে The Three-এর মধ্যে সঞ্চারিত হলো। নতুন পৃথিবীর অস্পষ্ট আভাস পাওয়া গেল এই উপন্যাসের মধ্যে। এরই স্পষ্ট, চূড়ান্ত রূপ হিসেবে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে আবির্ভূত হলো Mother। Mother উপন্যাসের ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা এখানে থাক, পৃথিবীর আর কোনো উপন্যাস এভাবে সমাজকে আলোড়িত করেনি। দেশে দেশে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠেনি।

প্রথম পর্বে গোর্কি শ্রমিকশ্রেণীর শোষণ-বঞ্চনা সুষ্ঠুভাবে চিত্রিত করলেও, শ্রেণী হিসেবে শ্রমিকদের ক্ষমতা ও আগামী দুনিয়ার নিয়ন্তা হিসেবে, জনগণের বিবেকের প্রহরী হিসেবে, শ্রমিকদের লুক্কায়িত শক্তির সন্ধান পাননি। সে জন্যই গোর্কির সাহিত্য-জীবনে Mother বিশিষ্ট স্থান অর্জন করে আছে। সরল মানবিকতা থেকে গোর্কি উত্তীর্ণ হন শ্রেণী-মানবিকতায়। যখন মা সোচ্চারে বলার ক্ষমতা অর্জন করেন—‘They can’t kill may spirit—my living spirit’।

গোর্কির দৃষ্টিভঙ্গির এই গভীরতা ও নবরূপ আনয়নে রাশিয়ায় ১৯০৫-এর অসমাপ্ত বিপ্লব অন্বিত হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গোর্কির বিশ্ব-দৃষ্টি ও নান্দনিক বোধের দুটো সুস্পষ্ট মতামত আমরা পাই। তিনি বিশ্বাস করেন বিপ্লবী পরিস্থিতির মধ্যে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হলেই আত্মার পুনর্জাগরণ ঘটবে, বিপরীতে সামাজিক ও ঐতিহাসিক ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় ‘বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিত্ববাদ’। Mother উপন্যাস প্রথম ধারার ফসল, দ্বিতীয় ধারায় তিনি সৃষ্টি করেন বিশ্ব-সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস Life of Klim Samghin। চার খণ্ডে লিখিত এই উপন্যাসে গোর্কি দেখিয়েছেন ‘সামদ্বিন-বাদ’ কিভাবে মানুষের আত্মিক মুক্তি ও পুনর্জাগরণে বাধা সৃষ্টি করে।

এই শ্রেণী-মানবতাবাদই পরবর্তীকালে সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার জন্ম দেয়। সাহিত্যধারার এই দ্বিতীয় পর্বে গোর্কির অন্যতম উল্লেখযোগ্য গল্প A Man is Born, The Creepy Crawlies, First Love; উপন্যাস The Artamonovs, আত্মজীবনীমূলক Trilogy উপন্যাস এবং নাটক।

১৯২১ খ্রিস্টাব্দে, বিপ্লবের পর, লেনিনের উপদেশে গোর্কি ইতালিতে বিশ্রাম করতে যান। ক্ষত ফুসফুস তার স্বাস্থ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছিল। এই পর্বেই সৃষ্টি হয় Tales of Italy। গোর্কির স্বাস্থ্যের ক্রমঅবনতি ঘটতে থাকে কিন্তু নতুন সোভিয়েত গঠনে তার পরিশ্রম চতুর্গুণ বেড়ে যায়। শুধু গল্প উপন্যাস নয়, সাংবাদিকতা থেকে শুরু করে নতুন লেখক সৃষ্টির দায়িত্ব, লেখকসংঘ গঠন, সোভিয়েতে নানা জাতির সাহিত্য-বিকাশে গোর্কি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। ১৯২৮-এর পর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি ঘটলে প্রতিবছর ইতালির আবহাওয়ায় কিছু দিন কাটিয়ে আসতে যান কিন্তু ১৯৩৩-এর পর পাকাপাকি সোভিয়েতেই বসবাস শুরু করেন। ইতিমধ্যে জার্মানিতে ফ্যাসিবাদের অভ্যুদয়ে গোর্কি বিশ্বের শান্তিপ্রিয় ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর ভগ্নস্বাস্থ্যের কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে গোর্কি মৃত্যুমুখে পতিত হন। মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তাঁর শেষ কথা উচ্চারিত হয়েছিল ‘There’ll be wars.… We must be prepared!...’ Old Izergil-এর Donko চরিত্রটির মতোই তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।

ভূমিকাঃ ম্যাক্সিম গোর্কির ছোটগল্প

ম্যাক্সিম গোর্কির কিছু বাংলা বইয়ের লিঙ্ক। 
যারা মোজাফফর হোসেনের (Mojaffor Hossain) সাথে মেশেনি তারা বলতে পারবে না এই মানুষটা কতটা অমায়িক। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ২০১৭ বইমেলায় তার সাথে কিছু সময় কাটাবার। মোজাফফর হোসেনের (Mojaffor Hossain) সাথে অনলাইনে পরিচয় প্রায় ১০ বছর হবে হয়ত তবে সাক্ষাতে এবারই প্রথম। এক সাথে মেলায় বেড়িয়েছি আর আলাপ করেছি। বিদায় বেলায় তার কিছু গল্পসংকলন সাথে করে নিয়ে আসলাম। পড়ি, পড়ি করেও এতদিন পড়া হচ্ছিলো না। গত কদিন ধরে পড়ছি তার “অতীত একটা ভিনদেশ”। এই বইটিতে এমন কিছু গল্প আছে আমার মনে হয় পাঠকদের অবশ্যই পড়া উচিত। রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলা ছোটগল্পের শক্তপোক্ত একটা বুনিয়াদ তৈরির পর প্রায় ১০০ বছর ধরে তাঁর পরবর্তী কথা সাহিত্যিকরা সেই বুনিয়াদকে বড় সড় একটা নির্মাণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। সেই বহমানতাকে বজায় রেখে গত শতাব্দীর নানান বাঁকে ছোটগল্প নিয়ে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঘটেছে, এক একটা সময়ে এক দল নতুন গল্পকার অনেক সফল ছোটগল্প লিখেছেন। বর্তমান সময়েও এ ধরনের তরুণ গল্পকারের অভাব নেই, অনেকেই বেশ ভাল লিখছেন, সুনাম করছেন। তবে কেন জানি না, তরুণ কবিদের নিয়ে যে পরিমাণ মাতামাতি ও প্রচার হয়, গল্পকারদের ঘিরে ঠিক তেমনটা চোখে পড়ে না। অথচ ভাল কবিতা লেখার মতোই ভাল গল্প লেখা খুব সহজ ব্যাপার এমন মনে করার কোনও কারণ নেই। মোজাফফর হোসেন (Mojaffor Hossain) এমনই এক নবীন গল্পকার, যার লেখায় ইতিমধ্যেই স্বতন্ত্র এক স্বাদ তৈরি হয়েছে, তার গল্পগুলোতে সেই স্বাতন্ত্র্যের ছাপ খুব স্পষ্ট। অথচ এই স্বাতন্ত্র্য অর্জন করার জন্য তাকে যে খুব বিরাট ঝুকি নিয়ে আমাদের চেনা জগতের বাইরের কিছুকে আমাদের সামনে হাজির করতে হয়েছে এমন নয়। আমাদেরই চারপাশের জগৎ, আমাদেরই চেনা পাড়া, তারই মধ্যে একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে মোজাফফের নাড়াচাড়া। তাই-মোজাফফরের গল্পের ভাষা, তার বর্ণনা, সংলাপ এসব পড়তে পড়তে আমার মনে হয়নি যে আমি প্ৰথাবিরোধী কারও রচনা পড়ছি, অথচ গল্প পড়া শেষ করে বারবারই মনে হয়েছে তিনি আমাদের যেন নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দিলেন। তার রচনায় এই অন্তঃশীল ভাঙনের চোরাস্রোত শেষ পর্যন্ত পাঠককে বিপন্ন রাখে।
তার গল্পসংকলনগুলো নিঃসংশয়ে সাম্প্রতিক সময়ের এক ব্যতিক্রমী গল্পসংকলন হিসেবে বিবেচিত হবার যোগ্যতা রাখে। মোজাফফরের আগামী যাত্রাপথের দিকে আমি সাগ্রহে তাকিয়ে থাকব।

বইটিতে অনেক প্রসঙ্গ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে বহুলচর্চিত, কিন্তু তারই মধ্যে একটি দৃষ্টিকোণ রয়েছে যা মৌলিক। যেমন ‘sacred cow’ সংক্রান্ত প্রবন্ধটি। বর্তমান হিন্দুদের গোমাংস অভক্ষ্য। কিন্তু গরু মোটেই দেবতাস্থানীয় নয়। এদেশে হনুমান, বাঘ প্রভৃতির মন্দির আছে। খোদ দিল্লিতে আছে কুকুরের মন্দির, যেখানে ভৈরবরূপে শিবের অধিষ্ঠান। অবাক ব্যাপার, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সারমেয়-দেবতার প্রসাদ হচ্ছে পকেটে গোঁজা যায় এমন সাইজ়ের ছোট এক বোতল রাম (ব্ল্যাক ডগ নামে মহার্ঘ স্কচ হুইস্কি নয়)। কিন্তু গোহত্যা নিষিদ্ধ হলেও গাভী মোটেই দেবী নয়। তার কারণ কী? কারণ, বহুকাল পর্যন্ত হিন্দুদের কাছে এই চতুষ্পদ জীবটির মাংস এমনই লোভনীয় খাদ্য ছিল যে, তা দিয়ে বিশিষ্ট অতিথির আপ্যায়ন ছিল রেওয়াজ।

এই তথ্যের একাধিক প্রমাণের সঙ্গে ডনিগার হাজির করেছেন বৈয়াকরণ পাণিনির (খ্রিস্টপূর্ব ষোড়শ বা পঞ্চম শতাব্দি) ব্যবহৃত একটি শব্দের সূত্র বিশ্লেষণ। শব্দটি ‘গোঘ্ন’। অর্থ, এমন এক ব্যক্তি, যার অভ্যর্থনার খাতিরে গাভী (বা ষাঁড়) হত্যা সঙ্গত। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দির এক ধর্মসূত্রে বিবৃত হয়েছে, ‘দুগ্ধবতী গাভী ও বলদের মাংস ভক্ষণীয়, তাছাড়া ষাঁড়ের মাংস যজ্ঞোত্‌সর্গের জন্য আদর্শ’ (আপস্তম্ব ধর্মসূত্র, ১.১৭.৩০.৩১)। রোমিলা থাপারের ‘আর্লি ইন্ডিয়া’ বইয়ে উল্লিখিত হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এমন নানাবিধ নিদর্শন, যা গোহত্যা সম্পর্কে সামাজিক স্বীকৃতির পরিচয়বাহক।

ডনিগারের মত অনুযায়ী, কৃষি অর্থনীতিতে গোজাতির উপযোগিতাই যে গোমাংস সম্পর্কে ‘taboo’-র সৃষ্টিকর্তা, তা সম্ভবত ঠিক নয়। তাঁর মতে, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম হিংসা, বিশেষ করে প্রাণীহত্যা, সম্পর্কে ব্যাপক জনমত তৈরি করছিল। সেই তোড়েই ভারতের গো-সমাজ পেল কসাইখানা থেকে অব্যাহতি। আধুনিক ভারতেও রাজনৈতিক নেতারা অহিংসা নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে পড়েন (তবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র নয়)। মহাত্মা গাঁধী অহিংসার এক নিদর্শন হিসেবে উপস্থিত করেন ‘বাত্‌সল্য’, ডনিগার দুষ্টুমি করে যার অনুবাদ করেছেন ‘calf love’। গাঁধী চেয়েছিলেন হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল ভারতীয়ই যেন গোহত্যা থেকে বিরত থাকে। লেখিকার মতে, এটি এক বিশেষ কারণ যার জন্য মুসলমানেরা গাঁধীকে বর্জন করে। তবে গোহত্যার সবচেয়ে বেশি রাজনীতিকরণ হয়েছে স্বাধীন ভারতে। ২০০১ সালে দ্বিজেন্দ্রনারায়ণ ঝা নামের এক অধ্যাপক ‘দ্য মিথ অফ দ্য হোলি কাউ’ নামে একটি বই লেখেন। তখনকার অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হিন্দুত্ববাদীদের চাপে প্রকাশক বইটি উধাও করে দেন। অধ্যাপক ঝা-র কাছে ঘনঘন আসতে থাকে সতর্কবাণী। অথচ বইটিতে একটি কথাও নেই যা ঐতিহাসিক সত্য নয়।

সূত্রঃ
মৌলিক দৃষ্টিকোণে হিন্দুত্ববাদ
সুমিত মিত্র

পাঠকদের পড়ার জন্য ডনিগারের "SACRED COWS AND BEEFEATERS" প্রবন্ধটি এখানে পরিবেশন করলাম।

SACRED COWS AND BEEFEATERS

SACRED COWS

T
he belief that the Hindus have sacred cows is attested in no less an authority than the Oxford English Dictionary (OED), which defines the term as, primarily, designating ‘The cow as an object of veneration amongst Hindus’, and cites an 1891 reference from Rudyard Kipling’s father, already in the context of Hindu-Muslim conflict: ‘The Muhammedan … creed is in opposition to theirs [sc. the Hindus] and there are rankling memories of a thousand insults to it wrought on the sacred cow.’ But the term soon became globalized as a metaphor, indeed a backhanded anti-Hindu ethnic slur. In US journalism the word came to mean ‘someone who must not be criticized’, and in American literature, ‘An idea, institution, etc., unreasonably held to be immune from questioning or criticism,’ a sense in which Margaret Mitchell used it in 1936 in Gone with the Wind: ‘I think of my brother, living among the sacred cows of Charleston, and most reverent towards them.’
The idea of a ‘sacred cow’ is an ‘Irish bull’ (the old British chauvinist term for an oxymoron), which the OED defines as ‘A self-contradictory proposition; in mod. use, an expression containing a manifest contradiction in terms or involving a ludicrous inconsistency unperceived by the speaker. Now often with epithet Irish; but the word had been long in use before it came to be associated with Irishmen.’ The word ‘sacred’ is in any case a Christian term that can be, at best, vaguely and inadequately applied in India, but cows would not in any case qualify for the adjective: there are no cow-goddesses or temples to cows or icons of cows to which worship is offered, though there are festivals in which people decorate cows and give them fruits and flowers. Since cows are not deities, there is no need for cow statues. Benign bulls are beautifully depicted at the doors of Shiva temples, and there are temples to monkeys, tiger temples, temple elephants, shrines to snakes, and even a temple or two to dogs, who are closely associated with Bhairava (an aspect of Shiva).i But not to cows.
‘Holy’ (or ‘sacred’) means a lot more than not-to-be-killed. Few of us kill, or eat, our children, but none would argue that they are sacred. Cows are, in fact, one of the few animals that are not the object of worship in India. Yet cows have been, for centuries, cultural symbols of non-violence and of the passive, bovine aspect of women, in sharp contrast with mares, whom the mythology depicts as oversexed, insatiable and Fatally Attractive.

COWS IN ANCIENT INDIA

In ancient India, from the time of the oldest religious text, the Rig Veda (c. 1500 BCE), cows were eaten regularly, both ritually and for many of the same reasons that people nowadays eat Big Macs. Like most cattle-breeding cultures, the Vedic Indians generally ate the castrated steers, but they would eat the female of the species on certain special occasions such as rituals or when welcoming a guest or a person of high status. The Brahmanas say that a bull or cow should be killed when a guest arrives, a cow should be sacrificed to Mitra and Varuna, and a sterile cow to the Maruts, and that twenty-one sterile cows should be sacrificed in the horse-sacrifice. For ‘the cow is food’. The grammarian Panini, who may have lived as early as the fifth or sixth century BCE, glossed the word go-ghna (literally, ‘cow-killer’) as ‘one for whom a cow is killed, that is, a guest’. [3.4.73] A Dharmasutra from the third century BCE specifies: ‘The meat of milk cows and oxen may be eaten, and the meat of oxen is fit for sacrifice.’ This textual evidence is further supported, in this period, by archaeological indications such as cattle bones found near domestic hearths, bearing marks of having been cut, indicating that their flesh was eaten.
It is one of the ironies of history that the British, who called themselves Beefeaters, once ruled India. Yet the ancient inhabitants of India in their attitude to cows somewhat resembled not Britons so much as early Texans: the people of the Rig Veda (like other members of the Indo-European family) were cattle-herders and cattle-rustlers, who went about stealing other peoples’ cows and pretending to be taking them back, all in the service of a religion that argued for Lebensraum, constant expansion, more and more grazing land for their horses. They sacrificed cows to the gods and ate them themselves, and they counted their wealth in pashus (cattle), cognate with Latin pecus (as in ‘impecunious’), Spanish pecos (as in ‘Pecos Bill’). On the other hand, one Brahmana passage forbids the eating of either cow or bull (dhenu or anaduh), concluding that anyone who did eat them ‘would be reborn as something so strange that people would say, “He committed a sin, he expelled the embryo from his wife.”’ The text then adds, ‘However, Yajnavalkya, said, “I do eat [the meat of both cow and bull], as long as it’s tasty.”’
But one of the ‘category error’ methods that Hindus used to resolve their ambivalence about ahimsav (nonviolence, or, more precisely, non-injury) was to make an exception for cows. Later texts insist that cows should not be eaten, and some people made a special exception and did eat meat but did not eat the meat of cows, as Romila Thapar points out: ‘Eventually it became a matter of status to refrain from eating beef and the prohibition was strengthened by various religious sanctions. Significantly, the prohibition was prevalent only among the upper castes.’ The argument against eating cows was not the sort of economic case that is often made today, and in any case that would have applied to other animals as well. Nor was the appeal of remaining superior to beef-eating Muslim invaders and mlechas (unclean invaders, such as the British) relevant in the ancient period, though such concerns did indeed eventually contribute to the cow-protection case. It was more a symbolic argument about female purity and docility, and a religious argument about Brahmin sanctity, that prevailed from the start. And the social-hierarchy reasons for not eating the meat of the cow persisted, as the sociologist M.N. Srinivas pointed out; the lower castes gave up beef when they wanted to move up the social ladder through the process known as ‘Sanskritization’.
The Mahabharata explained the transition to the non-eating of cows in a famous myth: ‘Once, when there was a great famine, King Prithu took up his bow and arrow and pursued the earth to force her to yield nourishment for his people. The earth assumed the form of a cow and begged him to spare her life; she then allowed him to milk her for all that the people needed.’ This myth imagines a transition from hunting wild cattle (the earth cow) to preserving their lives, domesticating them, and breeding them for milk, in a transition to agriculture and pastoral life. It visualizes the cow as the paradigmatic animal that yields food without being killed. The earth-cow later becomes the wishing-cow (Kama-dhenu), from whom you can milk anything you desire—not just food but silk cloths, armies of soldiers, anything. (The same function was sometimes assigned to wishing-trees [Kalpa-vriksha] or the ocean of milk, from which one can pick or churn whatever is desired.)

COWS IN CONTEMPORARY INDIA

Gandhi’s attitude to cows was an essential component of his version of nonviolence. Gandhi used the image of ‘calf love’ (vatsalya), the calf’s love for and from a mother cow, particularly the Earth Cow, Mother Earth, as a key symbol for his imagined Indian nation. He tried to include Muslims in the family, but cow protection was a factor in his failure to attract large-scale Muslim support, for, by the nineteenth century, one of the objects of the cow-protection movement was to force Muslims, who killed cows, to leave India.
The present-day fundamentalist movement of ‘Hindutva’ (literally, ‘Hindu-tion’) has attempted to use the alleged sanctity of the cow to disenfranchise Muslims, some of whom eat beef and/or slaughter the cows that many Hindus—in Kerala and Tamil Nadu, for instance—eat. Such Hindus argue that ‘We Hindus have always been here in India, and have Never Eaten Cows; Those Muslims have come in, and Kill and Eat Cows, and therefore must be destroyed.’ And it is not only the beef-eating Muslims (and Christians) who are the target of Hindutva’s hate brigade. In 2002, five Dalits were lynched in Jhajjar, Haryana, for skinning a cow; days later, eighty Dalits from the villages of those killed converted to Buddhism, Christianity and Islam.
THE ATTACK ON THE MYTH OF THE HOLY COW
In 2001, Dwijendra Narayan Jha, Professor of History at the University of Delhi, published The Myth of the Holy Cow, a dry, straight academic survey of the history of Sanskrit texts dealing with the eating, or not-eating, of cows. The book marshals indisputable evidence proving what every scholar of India has known for well over a century: that [a] the ancient Indians ate beef; [b] almost as early, the practice of vegetarianism in general, and, somewhat later, the prohibition of beef-eating in particular, spread throughout India, in Buddhism and Jainism as well as Hinduism, and continued alongside an on-going practice of meat-eating; and, finally, [c] several reformers, most famously Gandhi, made vegetarianism, particularly the taboo against eating beef, a central tenet of Hinduism. Professor Jha traces the history of the doctrine forbidding the eating of cows or the killing of cows, soundly and thoroughly covering both the classic texts and cutting-edge scholarship, both Indian and European.
The only shocking thing about this book is the news that someone had found it shocking, had been shocked, shocked by the argument that people used to eat cows in ancient India. Yet the cover of the book proudly proclaims: ‘A Book the Government of India Demands be Ritually Burned’, and the flyleaf assures us that the book was ‘banned by the Hyderabad Civil Court and the author’s life has been threatened.’ The Observer likened the book’s reception to that of Salman Rushdie’s Satanic Verses, and even the more-PC-than-thou Lingua Franca felt that the case was sexy/trendy enough to justify a notice that the book ‘was pulled from the country’s shelves’. Why?


Apparently what makes this a shocking book is the simple fact that it contradicts the Hindutva party line (the right-wing Bharatiya Janata Party [BJP] was in power in India when Jha’s book was published). Ironically, the pejorative phrase ‘sacred cow’ designates precisely the sort of fanaticism that has dogged the attacks on Professor Jha’s book. His basic point stands and is proved beyond dispute: the claim that Hindus have never eaten cows is false. But who will listen to him? Have any of the people making the Hindutva arguments—which are not historical or scholarly but religious and political—read—or, indeed, will they ever read—Professor Jha’s book? Michel Foucault and Edward Said, among others, have taught us that scholarship is often deeply implicated in creating the political mess in the first place; but scholarship has demonstrated far less power to clean the mess up. Like the sorcerer’s apprentice, or Frankenstein, or the scientists on the Manhattan Project, scholars create imperialist monsters that they cannot control but merely watch, aghast, from the sidelines, crying, ‘No, no, put it down!!!’ Yet the fact that The Myth of the Holy Cow was attacked is a good sign, a sign that someone among the Hindutva thugs reads, and worries that the pen may still be, if not mightier than the nuclear arsenal, at least a weapon worth scanning for, like knives at airports, a weapon capable of subversion.

আদিকালে যখন কাগজ ছিল না, মুদ্রণযন্ত্র ছিল না, তখন লেখার কাজ সহজ ছিল না। এখনকার মত অনায়াসে আল্পসময়ে হাজার হাজার বই ছাপিয়ে প্রচার করার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না। গ্ৰন্থ রচনার জন্যে লেখনের প্রকরণ যেমন তখন দুলৰ্ভ ছিল, আবার লিখিত বিষয়কে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার ব্যাপারও সহজ ছিল না। প্রাচীন আসিরিয়া ও ব্যাবিলন অঞ্চলে পোড়ামাটির ফলক বা পাতলা ইট, ভারতে তামার পাত ও শিলা এবং মিসরে প্যাপিরাস গাছের ছাল ইত্যাদি লেখার উপকরণ রূপে ব্যবহৃত হত। আরও পরে ভারতে তালপাতা, ভূজপত্র এবং ইউরোপে গবাদির চামড়া লেখনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু হয়েছিল। রচনা তখন ছিল নিতান্ত আয়াস সাধ্য। রচনার কপি তৈরি করা হত বহুদিন ধরে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বহু ব্যয়ে তা সংগ্ৰহ করতেন। এতসত্বেও প্রাচীন বিশ্বের ব্যাবলন, আসিরিয়া, মিসর ও ভারতে বহু গ্রন্থগার গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। মিসরের আলেকজান্দ্ৰিয়া এবং ভারতের নালন্দা তক্ষশিলা ও বিক্রমশীলায় সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। ভারতে মোগল রাজত্ব কালের প্রায় সূচনা পর্বেই যে গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব ছিল, তা জানা যায় গ্রন্থাগারের সিড়ি থেকে পতনের সাথে সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যু সংবাদ থেকে।
দেশবিভাগ এড়ানো যেত কিনা বিভিন্ন সময়ে এ প্রশ্ন জেগেছে মানবতাবাদী অসাম্প্রদায়িক বিদগ্ধ জনের মনে। কিন্তু ইতিহাসের ধারাবাহিকতার দিকে লক্ষ্য রাখলে আমরা দেখব, এককভাবে কোনো একটি বিশেষ কারণকে এই বিভক্তির জন্যে দায়ী করা যাবে না, সুদূর অতীত থেকে বহুদিনের বহু ছােটবড় ভুলের বিন্দু জমে সিন্ধু হল এই দেশবিভাগ। তাই আমরা জানি ইতিহাসের গতি প্রকৃতপক্ষে মানুষেরই সৃষ্টি। সেই জন্যেই মানুষের ভুলের মাশুল মানুষকেই গুনতে হয়—প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।

পৃথিবীর অনেক দেশেই, অনেক সমাজেই পিতৃতন্ত্রের সৌজন্যে নারীদের পড়ার কোনও অধিকার ছিল না। কিন্তু আশ্চর্য এই প্রাচীন পৃথিবীতে দশজন বাকসিদ্ধই ছিলেন নারী। তাদের জিহ্বাগ্রে উচ্চারিত হয়েছিল মানুষ ও সভ্যতার ভবিষ্যৎ। এই দ্রষ্টাদের সদুক্তি সংকলন হাজার হাজার বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করেছে মানুষের ভাগ্য। শক্তিধরেরাও মুক্ত ছিলেন না। তাদের প্রভাব থেকে!
আরোও চমকপ্ৰদ সংবাদ- বিশ্বের প্রথম লেখক যিনি, তিনি নারী। ভার্জিনিয়া উলফ একবার বলেছিলেন নামহীন যত উক্তি এবং রচনা, সবই নারীর- ‘অ্যানোনিমাস ওয়াজ ওম্যান’। লেখকের নাম এনহেদুয়ান্না (Enheduanna) । তিনি রাজদুহিতা। পশ্চিম এশিয়ার প্রাচীন আক্কাড (Akkad) দেশের রাজা প্রথম সারগন-এর (Sargon I) কন্যা তিনি। চাঁদের দেবী নান্না-র (Nanna) পূজারি এই রাজকন্যা প্রেম এবং যুদ্ধের দেবী ইনান্নার (Inanna) উদ্দেশে কিছু গীত রচনা করেছিলেন। মাটির ফলকে সেগুলি এখনও উৎকীর্ণ রয়েছে। তলায় রাজকুমারীর স্বাক্ষর। এ-ঘটনা খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০ অব্দের।
পৃথিবীর প্রথম ঔপন্যাসিকও একজন নারী। তিনিও পূর্বদেশীয়। পিতৃতন্ত্রের কঠোর কঠিন শাসন, পায়ে নিষেধের নিগড়, আধখানা আকাশও চোখের আড়ালে। রেশমের বাহারি পর্দার আড়ালে মসৃণ অন্তঃপুর। সেখানে নানা আয়োজনে সুখের অনন্তসাগর। তবু মনে বিষাদ, হৃদয়ে চাঞ্চল্য। সুতরাং, একাদশ শতকে সূর্যোদয়ের দেশের এক অসূৰ্যাম্পশ্যা অভিজাত নারী মুরাসাকি (Lady Murasaki) কাগজ কলম নিয়ে বসলেন। রচিত হল নতুন ধারার রচনা- উপন্যাস। নাম, বাংলায় বললে— ‘গেঞ্জির উপাখ্যান’। ইংরেজিতে ‘টেল অব গেঞ্জি’। বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসাবে আজ দেশে দেশে বন্দিত সেই বই। মুরাসাকি এই রচনা শুরু করেন ১০০১ খ্রিস্টাব্দে, আর তামাম শোধ ১০১০-এ।
বিশ্বের প্রথম পেশাদার বই-সমালোচকও। একজন নারী। তিনি আমেরিকার প্রথম বৈদেশিক সংবাদদাতা, সম্পাদক এবং লেখক মাগারেট ফুলার। বই সমালোচনা বা আলোচনাকে তিনিই প্ৰথম গ্ৰহণ করেন সর্বক্ষণের পেশা হিসাবে। মাৰ্গারেট ফুলার উনিশ শতকের মানুষ। তিনি ওয়াল্ট হুইটম্যান-এর সমসাময়িক। ফুলার তৎকালের একজন বিশিষ্ট নারীবাদীও বটে। তার আবেগমথিত রচনা ‘ওম্যান ইন দ্য নাইনটিনথ সেঞ্চুরি’ এখনও নাকি বিবেচিত হয় নারী-চেতনার এক মূল্যবান দলিল হিসাবে।

আলবের্তো মাঙ্গোয়েল, “আ হিষ্টি অব রিডিং', 'ভাইকিং, নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৬
পড়ার বইয়ের বাইরে পড়া - শ্রীপানথ।
‘I really had a lot of dreams when I was a kid, and I think a great deal of that grew out of the fact that I had a chance to read a lot.’
BILL GATES

There is a commonly voiced, though widely disputed, fear that those generations brought up with personal computers and all the distractions they offer have turned their backs on traditional pastimes such as reading. Hearteningly, though, Gates is a prodigious consumer of literature of all types. On his personal blog (www.gatesnotes.com), he devotes a great deal of space to logging his own reading, often accompanied by insightful reviews. In recent times he has also issued at least one list of book recommendations a year.
His passion for reading started early, as he revealed to Janet Lowe in 1998 for her book Bill Gates Speaks: ‘Growing up, my parents always encouraged us to read a lot and think for ourselves. They included us in discussions on everything from books to politics.’ He eagerly consumed the Tarzan stories of Edgar Rice Burroughs as a boy, and also set himself the task of wading through the World Book Encyclopedia, which ran to twenty volumes at the time. He gobbled up biographies too, exploring the lives of such notables as Franklin Delano Roosevelt and Napoleon Bonaparte. Meanwhile, as a child brought up with the moon landings and with a natural scientific bent anyway, he unsurprisingly developed a taste for popular science writing – both fiction and factual.
The reading bug never left him. Throughout his adulthood he has striven to give an hour a day over to it, and more at weekends. Nor does he restrict himself only to books, but reads a newspaper every day and several magazines each week, on the basis that they keep him informed on a broad spectrum of subjects from current affairs to the latest computing technology. Furthermore, in one of his columns for The New York Times back in 1996, he spoke of the ‘think weeks’ he takes a couple of times each year. During these breaks he stocks up on books ‘and other materials my colleagues believe I should see to stay up to date’, using the time to re-energize and re-evaluate.
His choice of books can best be described as eclectic. In his own words: ‘I read a lot, but I don’t always choose what’s on the bestseller list.’ While he is by no means averse to fiction (Graeme Simsion’s smash hit The Rosie Project made it onto his bookshelf on his wife’s recommendation), most of what he reads is non-fiction because ‘I always want to learn more about how the world works’. In an admission that must lift the souls of parents and teachers everywhere, Gates attests that it is through reading that he best learns.
As well as seeking out titles that teach him something new, he is drawn by gripping stories, especially those centered around human ingenuity. In 2013, for instance, he highly praised Marc Levinson’s The Box: How the Shipping Container Made the World Smaller and the World Economy Bigger. It is not, perhaps, a title that would win everyone over, but Gates loved it for the remarkable light it sheds on globalization, business and philanthropy.
Many of his book choices reflect his passion for addressing the great problems and crises that the world faces. So, for instance, he has read titles as disparate as Paul Farmer’s To Repair the World, the hugely apt How to Spend $50 Billion to Make the World a Better Place (a collection of essays edited by Bjørn Lomborg on the ten biggest challenges facing the planet today), Jeffrey Sachs’s The End of Poverty, Steven Levitt and Stephen Dubner’s Superfreakonomics (according to Gates: ‘One of my favorite things in the book is the debunking of many of the studies economists have done that they use as the basis for claiming that people are irrational in their choices.’), Leon Hesser’s The Man Who Fed the World (a biography of Nobel Peace laureate and agricultural scientist Norman Borlaug) and Katherine Boo’s heart-rending study of modern Indian slum life, Behind the Beautiful Forevers.
A man renowned for his ability to rapidly self-educate on subjects that fascinate him, he also has a taste for raw science. An all-time favorite is Surely You’re Joking, My Feynman!, an account of some of the exploits of Gates’s beloved Nobel Prizewinning scientist, Richard Feynman, including his encounters with Albert Einstein and Niels Bohr. The mid-seventies classic The Selfish Gene by Richard Dawkins also had a profound influence on him in its investigation of human evolution. Of particular relevance to Gates as he first got to grips with coding was the epic The Art of Computer Programming by Stanford professor emeritus Donald Knuth. Extending over several volumes, it is a notoriously dense work to get through and Gates read it over a period of months in twenty-page chunks. Writing in The New York Times in 1995, he said, ‘If somebody is so brash that they think they know everything, Knuth will help them understand that the world is deep and complicated.’
Meanwhile, we know that in more recent times Gates’s scientific reading has included both Weather for Dummies and Physics for Dummies, as well as Walter Gratzer’s hard-core Giant Molecules: From Nylon to Nanotubes and Karl Sabbagh’s The Hair of the Dog and Other Scientific Surprises. And among the popular biographies he has consumed is Walter Isaacson’s profile of Steve Jobs, while Gates’s love of tennis is reflected in his choices of Pete Sampras: A Champion’s Mind and Andre Agassi’s autobiography, Open.
In an interview with Achievment.org in 2010, he revealed his love of John Knowles’s A Separate Peace, which he described as ‘phenomenal’. Published in 1959, it is a coming-of-age novel set against the backdrop of the Second World War. Continuing the theme of American classics, he is a huge fan of F. Scott Fitzgerald’s The Great Gatsby. He even has the following words from the end of the novel inscribed on the domed ceiling of his personal library (which is replete with at least 14,000 titles and two secret book cases): ‘He had come a long way to this blue lawn, and his dream must have seemed so close that he could hardly fail to grasp it.’
Ever the ‘do-er’, Gates has not been content to be a mere reader either, but long ago became an author, too. His first work, The Road Ahead, was co-written with Nathan Myhrvold and journalist Peter Rinearson. An analysis of the rise of the personal computer and a rumination on the internet revolution then in its infancy, it was a bestseller for which publishers Penguin reportedly paid an advance of some $2.5 million. Gates set aside about four months for the writing process, which he found to be a genuine challenge that required him to focus on his thought processes and refine his conclusions. ‘My admiration for people who write books has increased now that I’ve done one myself,’ he would later say. Writers the world over gracefully accepted the compliment even as they dreamed of an advance amounting to just a small proportion of that which Gates had commanded. Undeterred by his first experience as an author, he wrote a second well-received book, Business @ the Speed of Thought, in 1999, looking at the relationship between commerce and technology.
A NOVEL PERSPECTIVE
The novel Gates most admires is J. D. Salinger’s The Catcher in the Rye, the 1951 tale of sixteen-year-old Holden Caulfield that is now regarded as one of the great American literary works. Gates commented, ‘I didn’t actually read The Catcher in the Rye until I was thirteen, and ever since then I’ve said that’s my favorite book. It’s very clever. It acknowledges that young people are a little confused, but can be smart about things and see things that adults don’t really see.’ Looking at things differently was certainly a trait Gates had shown growing up, something that he carried into adulthood and can best be seen in the way he attacked the early computer software market.

All of which should go to allay the fears of those suspicious that computers and books can happily co-exist in a post-Microsoft universe. It is true that some of his innovations have helped birth generations filled with individuals happier to stare at a screen lost in a gritty urban shoot-’em-up or pretending to be a star exponent of a sport they have never mastered in real life, but Gates himself could not personally do more to promote the value of reading. However, even he – the owner of a spectacularly beautiful traditional library, remember – concedes that time might be running out for the visceral delight of holding a physical book in one’s hands. ‘Digital reading will completely take over,’ he said in 2011. ‘It’s lightweight and it’s fantastic for sharing. Over time it will take over.’

This articles is an excerpt from a book called "How to think like Bill Gates" by Daniel Smith

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz