আমার ছেলের বয়স পাঁচ বছর। এই বয়সেই সে আমাকে নানান ধরনের শিক্ষা দেয়। শিক্ষার কোন শেষ নেই তাই ওর কাছ থেকেও আমি শিখি।
টিভিতে যখন হাত উঁচু করা কালো চশমা আর কালো কোট পড়া লোকটার ছবি দেখে তখন সে বলে আব্বু দেখো "বঙ্গবন্ধু" । আমি বলি হ্যাঁ বাবা বঙ্গবন্ধু। লালা-সবুজের পতাকা দেখলে বলে "জয় বাংলা"। আমি বলি হ্যাঁ বাবা "জয় বাংলা"। আমি ওকে বলি জানো বাংলাদেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিলেন, যার দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল, আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিল, ভালোবাসতে জানতেন। দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিকচিক করে জ্বলে তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোৎস্নারাতে রূপালী কিরণধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি এবং নিশ্চয়তার বোধ জাগিয়ে তোলে তা হলো তার ভালোবাসা। জানো বাবা তাঁর নাম? শেখ মুজিবুর রহমান।
বহুবছর আগে আহমদ ছফা বলেছিলেন, একদিন এরকমভাবে কোন পিতা হয়ত শোনাবে পুত্রকে বঙ্গবন্ধুর গল্প। আমি সেটাকেই সত্য করে নিলাম মাত্র। ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাপ বেটার শ্রদ্ধা।

বইয়ের হাট

Saturday, March 10, 2018

প্রথমেই কৈফিয়ত, আমি লেখক নই। কিন্তু মনের কথা বলার এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আমার জানাও নেই।
click to view large image
রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরি প্রবন্ধে লিখেছিলেন; “হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাঁধা আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানবহৃদয়ের বন্যা কে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!” এখন এই লাইব্রেরি শব্দটি যদি বইয়েরহাট দিয়ে প্রতিস্থাপন করি তাহলেই আমি এখন যা বলতে চাই সেটি পরিস্কার হয়ে যায়। সংগঠন মানেই কোন স্বপ্নের বাস্তবায়নে কিছু মানুষের একত্রিত হওয়া। সেরকম কিছু বই পড়ুয়া পাঠক শুধু বলবো না, যারা নিজে ও অন্যকে পড়িয়ে আনন্দ পান এমন কিছু মানুষের চেষ্টায় আজ আমাদের এই পড়ার গ্রুপ। সম্প্রতি শ্রদ্ধেয় মীনাক্ষী দত্ত (বুদ্ধদেব বসুর কন্যা) তাঁর কলামে ( https://rit.one/Bx7mwm )আমাকে এবং বইয়ের হাটকে স্মরণ করেছেন। এ আমাদের অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি আমার কৃতজ্ঞতা তাঁকে ফোনালাপে জানিয়েছি। কিছু তথ্যগত এবং ছাপার ভুল রয়েছে, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না, উনি আমাদের স্মরণ করেছেন সেটাই বড় বিষয়। আবারও রবিঠাকুরের কথা বলবো, কারন এই ব্যাক্তি এমনভাবে আমার মাথায় চেপেছে যাকে ছেড়ে চলে যাবার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই। বরিঠাকুর বলেছেন; “...কৃতজ্ঞতা দিলে তাঁহাকে অল্প দেওয়া হয়, তাঁহাকে ফাঁকি দেওয়া হয়। তাঁহাকে বলা হয়, তোমার কাজ তুমি করিলে, আমার কর্তব্যও আমি সারিয়া দিয়া গেলাম। বরঞ্চ স্নেহের একপ্রকার অকৃতজ্ঞতা আছে, কারণ, স্নেহের দাবির অন্ত নাই। সেই স্নেহের অকৃতজ্ঞতাও সাতন্ত্র্যের কৃতজ্ঞতা অপেক্ষা গভীরতর মধুরতর।” তাই সেই স্নেহের দাবি নিয়ে তাঁকে অনুরোধ করছি আমাদের হাটেও নিয়মিত লিখুন। আমাদের সাহস দিন। আমাদের উৎসাহিত করুন। আশাকরি উনি কথা রাখবেন। যারা এই হাটের জন্য দিবারাত্রি ভেবেছেন, পাঠকদের জন্য বই জুগিয়েছেন, যাদের কারনে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আজ বইয়ের হাট হয়ে উঠেছে তাদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা রইলো। কিছু নাম না করলেই নয়, যেমন; সুমন দাস, সুমন বিশ্বাস, রাহুল বিদ, শিশির, ইয়াদিরা, গীতাদি, বন্দন দা, মলয় দা, কবীর ভাই, আয়নামতি, সুচিত্রা ঘোষ, গৌতম বসু, রনি আহমেদ, দুর্জন, সৌমেন্দ্র, স্বাতী জানা, সুচিত্রাদি, সুজয়দা, নায়লা নাজনীন, আইরিনদি, সাব্বিরদা, দুর্জয়, স্বপনদা সহ এরকম অনেকেই বইয়ের হাটের বাইরে ও ভিতরে রয়েছেন যাদের সবার নাম হয়ত বলে শেষ করা যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ কেউ বাদ পড়লে আশা করি ক্ষমা করবেন।
যেকোনো কাজে আমি অনুপ্রেরণা পাই সুমনের ঐ গানে;

তুমি দেখবে… তুমি দেখবে তুমি দেখবে
ওই দুটো হাত বাড়ালে,
কিছু হাত ওই হাত ধরবেই
তুমি তোমার মাটিতে দাঁড়ালেই।

দুনিয়ার পাঠক এক হও। সকলের মঙ্গল হোক।
রবিবার কেন আমার প্রিয় গল্প



রবিবার গল্পের অভীক ও বিভার কথোপকথন আমাকে এখনো এই গল্পটি পড়তে আহ্বান করে। চোখবুজে এই গল্পের যেকোন লাইন তুলে আনলেই দেখবেন কি অদ্ভুত সুন্দর বৈদগ্ধ্য।
অভীক বলছে, ...'এ তোমার কী রকম কথা হল। শ্রদ্ধার ব্যক্তিগত বিশেষত্ব নেই? জাতকে-জাত যেখানে যাকেই দেখব শ্রদ্ধা করে করে বেড়াব? মাল যাচাই নেই, একেবারে wholesale শ্রদ্ধা ? একে বলে protection ব্যবসাদারিতে বাইরে থেকে কৃত্রিম মাসুল চাপিয়ে দর-বাড়ানো।'
বিভার উত্তরঃ 'মিথ্যে তর্ক কোরো না।'
অভীকের তৎক্ষণাৎ জবাবঃ 'অর্থাৎ তুমি তর্ক করবে, আমি করব না। একেই বলে, 'দিন ভয়ংকর,...
এতবার এই গল্পটি আমি পড়েছি আমার মুখস্থ প্রায়। চোখ বন্ধ করেই আওড়াতে পারি; "অপরাধ অত্যন্ত প্রত্যক্ষ না হলে সমাজ নিজের গরজে তাকে পাশ কাটিয়ে যায়।" আরও আছে; "আর্টের প্রমাণ রুচির পথে, সে রসিক লোকের প্রাইভেট পথ। সে গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড নয়।" এই রকম কত কথোপকথন যেন সম্পূর্ণ গল্পটি উদ্ধৃতির দাবী রাখে। বাক্যে বাক্যে সাহিত্য-দর্শন কি নেই? অভীকের মুখে আমরা শুনতে পাই; "কিন্তু কাকে বলে ঐশ্বর্য তাই নিয়ে তর্ক। ক্রাইসলারের গাড়িকে যারা ঐশ্বর্য বলে, আমি তো বলি, তারা মানুষকে ছোটো করবার দিকে টানে।" "মডার্ণ কালটাই খেলো। ...খেলো বলব না, বলব বেহায়া। সে কালের বুড়ো শিব চোখ বুজে বসেছেন ধ্যানে, এ কালের নন্দীভৃঙ্গী আয়না হাতে নিয়ে নিজেদের চেহারাকে ব্যঙ্গ করছে—যাকে বলে debunking." বিভার রূপের বর্ণনাও কি অসাধারণ ভাবে রবিঠাকুর অভীকের মুখ থেকে বলিয়েছেন; "...বিভার চেহারায় রূপের চেয়ে লাবণ্য বড়ো। কেমন করে মন টানে ব্যাখ্যা করে বলা যায় না। অভীক ওকে একদিন বলেছিল, 'অনাহূতের ভোজে মিষ্টান্নমিতরে জনাঃ। কিন্তু তোমার সৌন্দর্য ইতরজনের মিষ্টান্ন নয়। ও কেবল আর্টিস্টের; লিওনার্ডো ডা ভিঞ্চির ছবির সঙ্গেই মেলে, ইনসক্রুটেব্‌ল্‌।'" অভীক নির্ধিতায় স্বীকার করে; "আমরা চাই মেয়েদের মাধুর্য, ওরা চায় পুরুষের ঐশ্বর্য। তারই সোনালি পূর্ণতার উপরে ওদের প্রকাশের ব্যাক্‌-গ্রাউণ্ড। প্রকৃতির এই ফন্দি পুরুষদের বড়ো করে তোলবার জন্যে।" অভীকের পাগলামী আমাকে উদার ভাবে হাসিয়ে মারে; "ভগবান যদি সাম্যবাদী হতেন, তা হলে মেয়েদের চেহারায় এত বেশি উঁচুনিচু ঘটিয়ে রাস্তায় ঘাটে এ রকম মনের আগুন জ্বালিয়ে দিতেন না।" মাঝে মাঝে মনে হয় কি সত্য কথন কত অবলীলায় বলা যায়; "কর্তব্যবোধকে যারা অত্যন্ত সামলে চলে মেয়েরা তাদের পায়ের ধুলো নেয়। আর যে-সব দুর্দাম দুরন্তের কোনো বালাই নেই ন্যায়-অন্যায়ের, মেয়েরা তাদের বাহুবন্ধনে বাঁধে।" কি বুদ্ধিমতী মেয়ে বিভা, "...ভাগ্য তো সব সময় দেখা বিন্তি খেলে না। কিন্তু দেখো, একটা কথা তোমাকে বলি-- তুমি মাঝে মাঝে আমাকে জিগ্‌গেসা করেছ তোমার লীলাখেলা দেখে আমার মনে খোঁচা লাগে কি না। সত্য কথা বলি, লাগে খোঁচা।'
অভীক উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল, 'এটা তো সুসংবাদ।' এভাবেই রবিবার গল্পটি আমার অতি প্রিয় একটি গল্প হয়ে ওঠে।
ছােট ছােট দুঃখ-কথার রূপকার হুমায়ূন আহমেদের নিশিকাব্য গল্প নিয়ে বলেছেন আহমদ মোস্তফা কামাল।

‘নিশিকাব্য' গল্পে শহরে চাকরি করা ছেলে হঠাৎ সুযােগ পেয়ে এক রাতের জন্য বাড়িতে এলে যেন এক উৎসব শুরু হয়। নতুন করে রান্না চড়ে চুলায়, পুকুরে ঝাঁপাঝাপি করে গােসল করে দুই ভাই, তার শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে মা-বাবার স্নেহময় উৎকণ্ঠা, আর স্ত্রীর মৃদু লজ্জামাখা আহ্লাদ। এত সহজ ভাষায়, এত মৃদুকণ্ঠে এইসব ছােট ছােট সুখ ও আনন্দের গল্প শােনান তিনি যে মনে হয় জীবনের কোথাও কোনাে কালাে দাগ লেগে নেই। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে ভােরের ট্রেন ধরতে বেলা ওঠার আগেই বাড়ি ছাড়তে হয় তাকে, কিন্তু পেছনে রেখে যায় এক অপার ভালােবাসার গল্প। ছােট্ট একটি গল্প। এমনকি তেমন কোনাে ঘটনাই ঘটে না, তবু বুকের গভীরে যেন একটা ছাপ রেখে যায়। মনে হয়, জীবন কত সুন্দর, কত প্রেমময়!

বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার
আহমেদ মোস্তফা কামাল



About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz