রবিবার কেন আমার প্রিয় গল্প

Friday, March 9, 2018

রবিবার কেন আমার প্রিয় গল্প



রবিবার গল্পের অভীক ও বিভার কথোপকথন আমাকে এখনো এই গল্পটি পড়তে আহ্বান করে। চোখবুজে এই গল্পের যেকোন লাইন তুলে আনলেই দেখবেন কি অদ্ভুত সুন্দর বৈদগ্ধ্য।
অভীক বলছে, ...'এ তোমার কী রকম কথা হল। শ্রদ্ধার ব্যক্তিগত বিশেষত্ব নেই? জাতকে-জাত যেখানে যাকেই দেখব শ্রদ্ধা করে করে বেড়াব? মাল যাচাই নেই, একেবারে wholesale শ্রদ্ধা ? একে বলে protection ব্যবসাদারিতে বাইরে থেকে কৃত্রিম মাসুল চাপিয়ে দর-বাড়ানো।'
বিভার উত্তরঃ 'মিথ্যে তর্ক কোরো না।'
অভীকের তৎক্ষণাৎ জবাবঃ 'অর্থাৎ তুমি তর্ক করবে, আমি করব না। একেই বলে, 'দিন ভয়ংকর,...
এতবার এই গল্পটি আমি পড়েছি আমার মুখস্থ প্রায়। চোখ বন্ধ করেই আওড়াতে পারি; "অপরাধ অত্যন্ত প্রত্যক্ষ না হলে সমাজ নিজের গরজে তাকে পাশ কাটিয়ে যায়।" আরও আছে; "আর্টের প্রমাণ রুচির পথে, সে রসিক লোকের প্রাইভেট পথ। সে গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড নয়।" এই রকম কত কথোপকথন যেন সম্পূর্ণ গল্পটি উদ্ধৃতির দাবী রাখে। বাক্যে বাক্যে সাহিত্য-দর্শন কি নেই? অভীকের মুখে আমরা শুনতে পাই; "কিন্তু কাকে বলে ঐশ্বর্য তাই নিয়ে তর্ক। ক্রাইসলারের গাড়িকে যারা ঐশ্বর্য বলে, আমি তো বলি, তারা মানুষকে ছোটো করবার দিকে টানে।" "মডার্ণ কালটাই খেলো। ...খেলো বলব না, বলব বেহায়া। সে কালের বুড়ো শিব চোখ বুজে বসেছেন ধ্যানে, এ কালের নন্দীভৃঙ্গী আয়না হাতে নিয়ে নিজেদের চেহারাকে ব্যঙ্গ করছে—যাকে বলে debunking." বিভার রূপের বর্ণনাও কি অসাধারণ ভাবে রবিঠাকুর অভীকের মুখ থেকে বলিয়েছেন; "...বিভার চেহারায় রূপের চেয়ে লাবণ্য বড়ো। কেমন করে মন টানে ব্যাখ্যা করে বলা যায় না। অভীক ওকে একদিন বলেছিল, 'অনাহূতের ভোজে মিষ্টান্নমিতরে জনাঃ। কিন্তু তোমার সৌন্দর্য ইতরজনের মিষ্টান্ন নয়। ও কেবল আর্টিস্টের; লিওনার্ডো ডা ভিঞ্চির ছবির সঙ্গেই মেলে, ইনসক্রুটেব্‌ল্‌।'" অভীক নির্ধিতায় স্বীকার করে; "আমরা চাই মেয়েদের মাধুর্য, ওরা চায় পুরুষের ঐশ্বর্য। তারই সোনালি পূর্ণতার উপরে ওদের প্রকাশের ব্যাক্‌-গ্রাউণ্ড। প্রকৃতির এই ফন্দি পুরুষদের বড়ো করে তোলবার জন্যে।" অভীকের পাগলামী আমাকে উদার ভাবে হাসিয়ে মারে; "ভগবান যদি সাম্যবাদী হতেন, তা হলে মেয়েদের চেহারায় এত বেশি উঁচুনিচু ঘটিয়ে রাস্তায় ঘাটে এ রকম মনের আগুন জ্বালিয়ে দিতেন না।" মাঝে মাঝে মনে হয় কি সত্য কথন কত অবলীলায় বলা যায়; "কর্তব্যবোধকে যারা অত্যন্ত সামলে চলে মেয়েরা তাদের পায়ের ধুলো নেয়। আর যে-সব দুর্দাম দুরন্তের কোনো বালাই নেই ন্যায়-অন্যায়ের, মেয়েরা তাদের বাহুবন্ধনে বাঁধে।" কি বুদ্ধিমতী মেয়ে বিভা, "...ভাগ্য তো সব সময় দেখা বিন্তি খেলে না। কিন্তু দেখো, একটা কথা তোমাকে বলি-- তুমি মাঝে মাঝে আমাকে জিগ্‌গেসা করেছ তোমার লীলাখেলা দেখে আমার মনে খোঁচা লাগে কি না। সত্য কথা বলি, লাগে খোঁচা।'
অভীক উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল, 'এটা তো সুসংবাদ।' এভাবেই রবিবার গল্পটি আমার অতি প্রিয় একটি গল্প হয়ে ওঠে।
Share /

No comments

Post a Comment

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz