অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বঙ্কিমসাহিত্যের প্রতিক্রিয়া সমকাল ও উত্তরকাল বইটি চমৎকার একটি কাজ। নানান বই-পত্র, পত্রিকা থেকে তিনি দুষ্প্রাপ্য সব সমালোচনা সংগ্রহ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আটলান্টায় বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সমাবেশের আয়োজক উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদের কল্যাণে দেখা হয়েছিল অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে। বইটি খুলে ভূমিকা, নিবেদন পেরিয়ে সূচিপত্রে চোখ পড়লো যে লেখাটিতে সেটি হলো বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য: বাংলার মুসলমান সমাজের প্রতিক্রিয়া। কারন আমার নিজের একটি মত আছে, দেখার ইচ্ছে হলো যে অনিন্দিতাদির সাথে আমি কতটা একমত। তাঁর লেখার কিছু অংশে যাবার আগে আসুন দেখি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্কিমচন্দ্র সম্পর্কে কি বলেছেন। শ্রীচন্দ্র মজুমদারকে লেখা একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জানাচ্ছেন, "বঙ্কিমবাবু ঊনবিংশ শতাব্দীর পােষ্যপুত্র আধুনিক বাঙালির কথা যেখানে বলেছেন সেখানে কৃতকার্য হয়েছেন, কিন্তু যেখানে পুরাতন বাঙালির কথা বলতে গিয়েছেন সেখানে তাঁকে অনেক বানাতে হয়েছে; চন্দ্রশেখর প্রতাপ প্রভৃতি কতকগুলি বড়াে বড়াে মানুষ এঁকেছেন (অর্থাৎ তারা সকল-দেশীয় সকল-জাতীয় লোকই হতে পারতেন), তাঁদের মধ্যে জাতি এবং দেশকালের বিশেষ চিহ্ন নেই। কিন্তু বাঙালি আঁকতে পারেন নি"। এবার আসুন অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত লেখাটি থেকে কিছু অংশ পড়ি;

বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য: বাংলার মুসলমান সমাজের প্রতিক্রিয়া (অংশবিশেষ)

বাংলা সাহিত্যজগতে (কথাসাহিত্যে) বঙ্কিমচন্দ্রের আবির্ভাবকালে বাঙালি মুসলমান সমাজ, বাংলাচর্চায় ছিলেন একেবারেই অনাগ্রহী। যে কারণে বাংলায় কে কি লিখছেন তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা ছিল না। বাংলাকে তারা মনে করতেন হিন্দুর ভাষা এবং সেই কারণে এই ভাষাচর্চায় তাদের কোন আগ্রহ ছিলনা। আরবী ফারসী এবং উর্দুর চর্চা করতেন তারা। বাংলা ভাষাচর্চায় তাদের অনাগ্রহের পেছনে আরও দুটি কারণ ছিল। প্রথমত বাংলা ভাষা শিক্ষার জন্য যে সব বই পড়ানো হত তার সঙ্গে মুসলমান সমাজের চেনা মহলের কোন মিল ছিলনা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা চাইতেন না তাদের সন্তান সরস্বতীবন্দনা, শিবস্তোত্র পড়ুক—যা তাদের বিশ্বাসের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত—এই সময়ে মুসলমান সমাজের নেতা ও চিন্তাবিদরা মনে করতেন ভদ্র, শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের উর্দুচর্চা করা উচিত। নিম্নবর্গের লোক বাংলাচর্চা করবে, কিন্তু সে বাংলাও প্রচলিত বাংলা নয়, তাতে মেশানো থাকবে প্রচুর আরবী ফারসী শব্দ যার নাম মুসলমানি বাংলা। মুসলমানি বাংলায় লেখা বেশ কিছু বই-এর উল্লেখ লং সাহেব তার ক্যাটালগ (১৮৫৫)-এ করে গেছেন। এই সব কারণে সর্বজনবোধ্য বাংলা ভাষার চর্চা থেকে বাঙালি মুসলমান সমাজের প্রায় সবাই দূরে থাকতেন। কিন্তু উনিশ শতকের সত্তরের বছরগুলির মাঝামাঝি সময় থেকে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তনের সূচনা হল। মীর মশাররফ হোসেন হুগলি কলেজের কিছু ছাত্রের সহযোগিতায় প্রকাশ করলেন আজীজন্‌নাহার (১৮৭৪) নামে একটি পত্রিকা। এই পত্রিকায় তিনি ঘোষণা করলেন যে, এই দেশ তাদের মাতৃভূমি এবং বাংলা ভাষা তাদের মাতৃভাষা। মুসলমান সম্পাদিত একটি পত্রিকায় এই ঘোষণা দেখে ভূদেব মুখোপাধ্যায় তাঁর কাগজে এক বিশাল সম্পাদকীয় লিখলেন ‘এদেশের মুসলমানরাও বাঙালি’ নামে। এই সময় থেকে শুরু হল বাঙালি মুসলমান সমাজের ঘরে ফেরার পালা। ইতিমধ্যে বঙ্কিমচন্দ্রের ৫/৬টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলি সম্পর্কে মুসলমান সমাজের তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় না। কিন্তু উনিশ শতকের সত্তর ও আশির বছরগুলি থেকে বাঙালি মুসলমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতে থাকল একের পর এক পত্রিকা।

যে সময়ে মুসলমান সমাজের একাংশ বাংলা ভাষা-সাহিত্যচর্চায় আগ্রহ বোধ করতে শুরু করছেন, ঠিক সেই সময়েই আমাদের দেশে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনার সূত্রপাত। সমকালের জাতীয়তাবাদী চিন্তাচেতনায় আচ্ছন্ন বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদদের অধিকাংশই এই সময়ে হিন্দু গৌরবের স্বপ্নে বিভোর। মুসলমান সমাজও যে তাদের প্রবল অস্তিত্ব নিয়ে পাশাপাশি বিরাজ করছেন এটা বুঝতে পারলেন না তাঁরা। ফলে বাংলার জাতীয়তাবাদের প্রথম পর্ব বিকশিত হল হিন্দুগৌরবের পথ ধরে। বাঙালি মুসলমান সমাজ ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন বাংলাভাষার চর্চা না করে তারা ভুল করেছেন ঠিকই, কিন্তু আরও বেশি ভুল করেছেন ইংরেজি ভাষাশিক্ষায় অবহেলা করে। ক্ষোভে, অভিমানে রাজত্ব হারানোর বেদনায় নতুন শাসকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং ইংরেজি ভাষাচর্চায় অবহেলা করার সুযোগ নিয়েছেন তাঁদের প্রতিবেশী হিন্দুরা। শিক্ষা দীক্ষা চাকরিবাকরি মান মর্যাদায় তারা মুসলমানদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সচেতন হয়ে বাঙালি মুসলমান সমাজ সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি দাওয়া পেশ করতে শুরু করলেন। তাঁদের সন্তানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে লাগলেন—শিক্ষা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার দাবি করলেন। ১৮৮৫-তে যখন ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হল তখন তারা একে ‘হিন্দু কংগ্রেস’ নামে অভিহিত করে তা থেকে দূরে সরে থাকলেন। সচেতন হয়ে ওঠার পর মুসলমান সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিরা উভয় সম্প্রদায়ের বৈষম্যের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। হিন্দুরা তাদের কতখানি অবজ্ঞা এমন কি ঘৃণার চোখে দেখেন তা তাদের নজরে পড়তে লাগল। এর এক সাংঘাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিল বাঙালি মুসলমান সমাজে। যত দিন যেতে লাগল অবস্থা হয়ে উঠতে লাগল তত জটিল। বিশ শতকের সূচনাকাল থেকে তা রীতিমতো বিস্ফোরক চেহারা নিল। মুসলমানদের স্বার্থ বিশেষভাবে দেখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হল মুসলিম লিগ (১৯০৬)। সাহিত্যক্ষেত্রে বিভিন্ন হিন্দু ও ব্রাহ্ম লেখকের মুসলমান বিদ্বেষের প্রতিক্রিয়া শুরু হল, বিশেষ করে যেসব পত্রিকা ধর্মের প্রতি একটু বেশি আগ্রহী, তাতে তার প্রকাশ ঘটল অত্যন্ত উগ্রভাবে।

হিন্দু লেখকদের মুসলমান চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশিত হতে শুরু করল উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে। বঙ্কিমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, রঙ্গলাল, হেমচন্দ্র, হারানচন্দ্র, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রভৃতির রচনা থেকে বিভিন্ন অংশ তুলে দেখানো হতে লাগল তারা সচেতনভাবে কি পরিমাণ মুসলমান বিদ্বেষ প্রচার করেছেন। মুসলমান সমাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ যে মানুষটির বিরুদ্ধে প্রকাশ পেল তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


বিস্তারিতঃ
বঙ্কিমসাহিত্যের প্রতিক্রিয়া
সমকাল ও উত্তরকাল
অনিন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
বই পড়া চালিয়ে যাওয়া হলো শূন্যতার বিরুদ্ধে, চোখ ঝলসানো রঙিন তাৎক্ষণিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক প্রকারের যুদ্ধ। লেখক ও পাঠকের মধ্যে সংযোগ ঘটায় বই। বইকে কোন ভৌগলিক সীমানায় বেঁধে রাখা যায়না দেশি-বিদেশি নৈতিক অনৈতিক দুরূহ নিরীহ দুর্বোধ্য সুবোধ্য, এসব অভিজ্ঞান বইয়ের ক্ষেত্রে অবান্তর। যে ভাষাতেই লেখা হোক না কেন শুধু এইটুকু দেখার বিষয় লিখিত বইটি অপাঠ্য না সুপাঠ্য। আমাদের বাপ-বেটার দুজনেরই খুব প্রিয় একটি বই আছে। আমরা দুইজন কাড়াকাড়ি করে পড়ি। একবার না সুযোগ পেলেই পড়ি, অনেক সময় সুযোগ করে নিয়েও পড়ি, উদ্ভট এক বই। ছেলের মা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে কি এমন বই যে দুজনই হুমড়ি খেয়ে পড়ছো। আপনারাও তাই ভাবছেন তাই তো। বইটির নাম দ্য আই ওন্ডার বুকস্টোর, বানিয়েছেন (লিখেছেন না বলে বানিয়েছেন বলার রহস্যটি বই পাঠকদের জন্য তুলে রাখলাম) সহিংসুকে যোষিতাকে। দুনিয়া হাজারো বিষয় থাকতে ভদ্রলোক মাস্টারস করেছেন প্লাস্টিক আর্টে। দুর্দান্ত আকিয়ে। বই নিয়ে নানান ধরনের গল্প আছে এই বইয়ে (নমুনা পাতা দেওয়া হলো)। একদিন তাহান বলছে, তার নাকি মনে হয় যারা বই পড়ে তারা নাইস পিপল। আমি জানতে চাই তোমাকে কে বলেছে? সে তখন দ্য আই ওন্ডার বুকস্টোর বইটি বের করে দেখায় সেখানে লেখা রয়েছে, No book lover is a bad person deep down. তাই তো, যারা বই ভালোবাসে তারা তো খারাপ হতেই পারে না। বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বব্যাপী আশঙ্কার মুহূর্তে আসুন আমরা সবাই পরিবার সহ সেই গ্রন্থলোকের অনন্ত আকাশের নিচে দাড়াই।


অনেকেই হয়তো জানেন আমি ফেসবুকে একটি বইয়ের গ্রুপ পরিচালনা করি, তাও অনেক বছর হলো। ইদানীং অদ্ভুত সব অনুরোধ আসে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু কথা বলতে চাইছি।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপযুক্ত নাগরিক হতে হলে শিক্ষা একটি অপরিহার্য বিষয়। আমাদের চারপাশে এত এত শিক্ষিত মানুষ অথচ আমাদের গণতন্ত্রের এমন দশা কেন? উচ্চশিক্ষার এবং মনুষ্যত্বের ঋজুতা বিবেকানন্দের ভাষায় প্রাথমিক স্তর থেকেই 'অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত' করা উচিত। একটি বহুতল ভবন যেমন ভালো গাঁথুনি ছাড়া সম্ভব নয় তেমনই প্রাথমিক স্তর মানুষের জীবনের ভিত্তিস্বরূপ। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্ধের হস্তী-দর্শনের মত। পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা দিতে বা নিতে কোনটাতে আমাদের আর আগ্রহ নেই।

আমরা সবকিছুর সারাংশ খুঁজি। এক ট্যাবলেটে সকল অসুখ নিরাময় পদ্ধতি যেমন কার্যকর নয় তেমনই সারাংশ শিক্ষাও কোন কাজের নয়। প্রাথমিক শিক্ষায় কি জাতি, ধর্ম, মতবাদ, ধনী, দরিদ্র এবং সামাজিক ও বংশমর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যে মূলত এক, এই শিক্ষা কি আমরা পাই? অচ্ছুৎ, গরীব বলে এক শিশুর পাশে আরেক শিশুকে বসতে না দেওয়ার শিক্ষা আমাদের দেওয়া হয়। সুভাষচন্দ্র বসু বলতেন বিদ্যালয়ের উচিত চরিত্রবান মানুষ তৈরি করা, যারা জাতির জন্য জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহত্ত্ব অর্জন করে মহৎ হবেন। কিন্তু সেটা কি হয়েছে? শিক্ষা ও উন্নতির প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। জীবনে উন্নতির যেমন শর্টকাট নেই তেমনি শিক্ষারও শর্টকাট হয় না। কিন্তু আমাদের মূল্যবোধ ধসে গেছে এমন জায়গায় যে শিক্ষক নোট দেন না তাঁর কাছে অভিভাবকেরা সন্তানদের পাঠান না।

স্কুলেজীবনে একদিন বাবা বলল অমুক স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি পড়তে যাবি। প্রথম দিন যাওয়ার পরে বাসায় এসে বললাম ঐ স্যার ভালো না, কোন নোট দেন না। সমস্ত বই পড়ান। ঐ দিন রাতে বাবা কিছু বলে নি। কিন্তু সকালে কাছে ডেকে বললো, 'তোকে উনার কাছে পাঠিয়েছি আসলে কেমিস্ট্রি শেখার জন্য নয়। তুই শিখবি উনি কিভাবে পড়ান। সেটা আয়ত্ত করতে পারলে তোকে সারাজীবনে কোনদিন ব্যাচ পড়তে হবে না'।

পরে যখন প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বাঙালীর ভবিষ্যৎ বইটি পড়ি তখন দেখি উনি এমন কথাই বলে গেছেন, "আমরা বাল্যকাল হইতেই উপরচালাকি বা ফাঁকিদারি দ্বারা কাজ ফতে করিতে চাই। রীতিমত পরিশ্রম করিয়া বিদ্যার্জন করা যেন এখন রেওয়াজের বাইরে।........কোন শিক্ষক বা অধ্যাপক যদি একটু বেশি রকমের ব্যাখ্যা করেন, তাহা হইলে ছেলেরা অধৈর্য হইয়া উঠে এবং সে অধ্যাপক অপ্রিয় বা ছাত্রদের বিরাগভাজন হইয়া উঠেন।......যে-শিক্ষক যত নোট দিতে পারেন তিনি ছাত্রসমাজে তত প্রশংসার ভাজন হন। এইরূপে গোড়াতেই কাঁচা থাকার দরুন প্রকৃত শিক্ষা হয় না।" এই প্রকৃত শিক্ষার অভাবে আমরা এমন বই খুঁজি যেখানে সকল কিছু থাকবে। গাইড বই পড়ে শিক্ষিত হওয়া শ্রেণী জীবনে এক সময় সাহিত্য সাধনায়ও গাইড বইয়ের খোঁজ করেন। এমন 'এক বই' যেখানে সব তথ্য-তত্ত্ব থাকবে। কিন্তু সাহিত্যে তো এমন বই হয় না। সাহিত্য তো কোন ধর্মগ্রন্থ নয় যা একটি মাত্র বইয়ে সকল কিছু ঠেসে দেওয়া যাবে। আমি তাদের প্রমথ চৌধুরীর সেই কথাটি স্মরণ রাখতে বলি, "শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। সুশিক্ষিত লোক মাত্রেই স্বশিক্ষিত।"

যদি রবীন্দ্রনাথকে পড়তে ও বুঝতে চান তাহলে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ পড়ুন। জোড়াতালি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ পড়বেন না। বর্তমানের প্রযুক্তি আমাদের অনেককিছু দিয়েছে যেমন তেমন আবার আমাদের অভ্যাসও খারাপ করে দিয়েছে, যা আমাদের সব কিছুকে ছোটো করে কেটে-ছেঁটে হাতের মুঠোয় ধরাবার মতো তৈরি করে নিতে শেখায়৷ এটা ইতিহাস, ওটা সাহিত্য, এটা অর্থনীতি, ওটা সংগীত, এটা সমাজতত্ত্ব, ওটা শিল্প, এটা বিজ্ঞান, ওটা আর একটা অন্য কিছু৷ এরকম আলাদা আলাদা নামে, ভাগে আমরা যত টুকরো বানাই, সমগ্র অবয়ব তত হারিয়ে যায়, গোটা আদল তত আবছা হয়ে আসে৷ এভাবে সমগ্র শিক্ষার থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।

"‘হিন্দুমুসলমান সমস্যায় রবীন্দ্রনাথ’, ‘গ্রাম সংগঠনে রবীন্দ্রনাথ’, ‘রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্রচিন্তা’, ‘লোক-নৃত্যে ও লোকসংগীতে রবীন্দ্রনাথ’, ‘নবজাগরণে রবীন্দ্রনাথ’, ‘রবীন্দ্রনাথ ও সংস্কৃত সাহিত্য’, ‘মানবধর্মের রবীন্দ্রনাথ’, ‘রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তা’, ‘রবীন্দ্রনাথের নারী-ভাবনা’, কিংবা ‘রবীন্দ্রনাথের ভাষাচিন্তা ও ছন্দচিন্তা’ ইত্যাদি যাবতীয় ভাগে রবীন্দ্রনাথকে ভাগ করেছি আমরা। কেউ নিশ্চয়ই বলবেন না যে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে গিয়ে এর কোনো একটা প্রসঙ্গও বর্জনযোগ্য।’" নিশ্চয়ই তা নয়, কিন্তু এই প্রসঙ্গসূচি-পদ্ধতির মুশকিল এই যে সেই এতে করে সম্পূর্ণ শিক্ষা তৈরি হয় না।

যখন আপনি কম্পিউটার সায়েন্স পড়বেন তখন কেন আপনাকে শিল্পকলা পড়তে হবে, ইতিহাস, দর্শনের কি প্রয়োজন এক্ষেত্রে? প্রয়োজন আছে, সেটি তখন বুঝবেন যখন আপনি মানুষের সেবার জন্য ভালোর জন্য কোন সফটওয়্যার বানাবেন। তখন দেখবেন আপনার শেখা দর্শন, ইতিহাস, কলা সকল কিছু কাজে লাগছে। আমি বলছি না যে রাতারাতি সবকিছুর আদল পাল্টে ফেলতে হবে, তবে নিজের ঘর থেকে শুরু করতে দোষ কি! মনের গভীরে আমরা তো চাই আমাদের সন্তানেরা স্বশিক্ষিত হোক।

Book Morning 8th June, 2019

Monday, June 10, 2019

বুক মর্নিং
Book Morning

১৯৫৬ সালে, হার্পার লি নামের একজন তরুণ লেখক তাঁর ধনী বন্ধুদ্বয় মাইকেল এবং জয় ব্রাউনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন এক বছরের বেতন যেন তিনি একটি উপন্যাস লিখে শেষ করতে পারেন। অথচ টু কিল আ মকিংবার্ডের সফলতায় আমরা এই উপকারী বন্ধুদের নাম দেখি না, জানতেও পারিনা একটি উপন্যাসের পেছনে শুধু লেখকই নন আরও কত নাম না জানা সুপার হিরোরা রয়েছে। এই উপন্যাসের সাফল্যের পেছনে আরও একজনের নাম না বললেই নয় তিনি হলেন Lippincott প্রকাশনীর সম্পাদক Tay Hohoff যাকে লি তাঁর পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন ১৯৫৭ সালে। পান্ডুলিপি পড়ে Tay বলেছিলেন অনেক অনেক ঘষামাজা প্রয়োজন। পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী বইটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর আধুনিক আমেরিকান সাহিত্যে একটি ক্লাসিকে পরিণত হয়েছে।


Image may contain: Riton Khan, eyeglasses and hat

বুক মর্নিং
Book Morning

The Vampire Chronicles এর লেখক Anne Rice লেখালেখি নিয়ে বলেছেন, তুমি যদি লেখক হতে চাও তাহলে লেখো, লেখো, লিখতেই থাকো। যদি থামো তবে আবার শুরু করো। আমেরিকান কবি William Stafford বলতেন, আমি সেটাই করছি যা অনেকেই শুরু করেছিলেন। মূল প্রশ্নটি হচ্ছে, অন্যেরা কেন থেমে গেলেন। আজীবন লিখে গেছেন তিনি। এমনকি মৃত্যুর দিনটিতেও সকালে লিখেছিলেন এই কবিতা;
মা বলতেন,
তোমাকে কোন কিছু
প্রমাণ করতে হবে না।
শুধু ঈশ্বরের দেওয়াটুকু
গ্রহণের জন্য তৈরি থেকো।


No photo description available.

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz