দিনের শুরুতে এক পাতা পড়ি
স্বাধীন এবং সুখী জীবন গড়ি
- রিটন খান

বর্তমান সময়ে এটাই স্বাভাবিক যে এই লেখাটি হয়ত আপনার হাতে ধরা ফোনটি বা ট্যাবটিতে পড়ছেন। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া এখন এতটাই বিস্তৃত যে এগুলো ছাড়া আমরা আমাদের জীবনটাই কল্পনা করতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের পরম আত্মীয়। এটি আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, আমাদের স্বতন্ত্রতা আমাদের উপলব্ধিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলোর ভালো ও খারাপ দিকগুলি নিয়ে বিজ্ঞজনেরা গবেষণা করবেন। কিন্তু আমরা আমাদের জীবনের মূল্যবান সময়গুলি কিভাবে খরচ করবো সেটি আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে।

ইন্টারনেটে যে কি পরিমাণ তথ্য পাওয়া যায় তা নিয়ে ভাবতে গেলে অনেকেরই পাগল হয়ে যাবার অবস্থা হবে। আলাদিনের চেরাগের মতো আশ্চর্যজনক, যে আজকাল প্রায় যে কোনও প্রশ্নের উত্তর আক্ষরিক অর্থেই আমাদের নখদর্পণে। ইনফরমেশনের এই সহজলোভ্যতারও মূল্য রয়েছে, কোন কিছুই ফ্রি নয়। এই সুবিধাটি আমাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করাকে অপ্রাসঙ্গিক এবং অর্থহীন মনে করে। যা পরবর্তিতে আমাদের জীবন-যাপনের যে সুখকর অনুভূতি সেটি নষ্ট করে দেয়। একবার ক্লিক করেই যেমন সবকিছু উন্মোচিত হয় আমাদের সামনে, ঠিক তেমনই দ্রুত এর গভীরতাও নষ্ট করে দেয়। আমি বলছি না যে জীবনে ইনফোরমেশনের গুরুত্ব নেই, আছে; তবে সেটি যদি শুধু জানার জন্যই জানা হয় তাহলে কোন কাজেই আসে না। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের বাইরের জগতের সাথে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করছে কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ আত্ম-উপলব্ধির জায়গাটা নষ্ট করে দিচ্ছে। ক্রমাগত বাইরে জগতের সাথে সবসময় যুক্ত থাকার আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতাকে প্রতিহত করে। এমন অনেকগুলি অ্যাপ্লিকেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যা আমাদের এবং বিশ্বের অন্যদের মধ্যে দূরত্বকে ভেঙে দিয়েছে। অনেকে এটিকে একটি দুর্দান্ত উপহার হিসাবে বিবেচনা করছেন। তবে নিজেকে ২৪ ঘণ্টা উপলভ্য হওয়ার সুযোগ দিয়ে এবং অন্যের সমানভাবে উপলব্ধ হওয়ার প্রত্যাশার মাধ্যমে নিজের চিন্তাগুলিতে মনোনিবেশ করার জন্য আর কোনও সময়ই আমাদের থাকছে না।

ফলস্বরূপ, আমরা আমাদের এইসব ইন্সট্যান্ট ক্রিয়াগুলির ইন্সট্যান্ট প্রতিক্রিয়া আশাকরছি। নিজের মতামত অন্যের কাছ থেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রাতদিন অতিবাহিত করছি। এতে আমাদের শান্তিতে সময় কাটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। আমরা নানান কাজের ফাঁকে টুক করে খোঁজ নিচ্ছি দুনিয়ার খবর। আজান্তেই আমরা এক হেডলাইন-সর্বস্ব মেধাহীন অস্থি্র জাতিতে পরিণত হচ্ছি। অনেকে এই জীবনে এতটাই মানিয়ে নিয়েছি যে এর বাইরেও জীবন-যাপন করা সম্ভব সেটি কল্পনাতেও আনতে পারছি না। এই অবিচ্ছিন্ন জীবন আমাদের দৈনন্দিন নানান সমস্যার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

আজকাল, একটু উদাস, একাকী বা অসহায় বোধ করলে আমরা তাত্ক্ষণিকভাবে আমাদের স্মার্টফোনে আশ্রয় খুঁজি। মন কেন খারাপ, কেন আমি বিষণ্ণ এইগুলি ভাববার বদলে এগুলি থেকে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করছি অবিরত এবং হাতের মুঠোফোনটি হয়ে উঠছে আমাদের ফ্রেন্ডস ফর এভার। ক্রমাগত এই ডিজিটাল বিশ্বে পালিয়ে বেড়ানোর আনন্দে আমরা বিভোর। উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা সারিয়ে ওঠার বদলে দ্রুতই আমরা আরও বিষণ্ণবোধ করতে শুরু করি।

এখন প্রায় শুনি বই পড়ার সময় নেই। কিন্তু সময়গুলি খাচ্ছে কে? ইন্টারনেটের উত্থান এবং পোর্টেবল ডিভাইসের সহজলভ্যতা আমাদের সমস্ত সময় খাচ্ছে এমন ভাবনাও অমূলক নয়। একটি বই পড়তে হলে পাঠের জন্য মনোনিবেশ করতে হয়। বিপরীতে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। আমাদের মনোযোগকে এক ক্লিক থেকে আরেক ক্লিকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই স্থানান্তরিত হওয়ার অভ্যাসটি আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে শুরু করে। আমরা এখন আর বোঝার অভিপ্রায় নিয়ে পড়ি না। আমরা স্কিমিং করে পড়ি, দ্রুত স্ক্রোল করে পরবর্তী বিষয়টিতে পৌঁছানোর জন্য ছুটে যাই। ডিজিটাল বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের পশ্চাদপদে এমন কষে লাত্থি দিয়েছে যে আমাদের নিজের জন্য মনযোগ দেওয়ার কোন সময় নেই। এমনকি যখন দুজন মানুষ একসাথে হচ্ছি আড্ডা দেওয়ার জন্য তখনও আমরা কোনও ফেসবুকের বা ইমেলের উত্তর দিচ্ছি। অথবা কোনও নিউজ ওয়েবসাইটের পাতায় দ্রুত স্ক্রোল করছি। ফলাফল, আমরা কেবল শুধু হাইলাইটগুলি পড়ে সন্তুষ্ট থাকছি। বিষয়ের গভীরে যেতে পারছি না। আমরা এখন সম্পূর্ণ একটি প্রবন্ধ বা একটি আস্ত বইয়ে ডুব দিতে পারি না যা আমাদের নিজস্ব মতামত চিন্তাভাবনা গঠনে সাহায্য করবে। এই সমস্ত ডিজিটাল ব্যাঘাত আমাদের নিউরোনাল ফাংশনগুলিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা পরিস্কার চিন্তা করতে পারছি না। আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ আমাদের মস্তিস্কে এক বিশাল প্রভাব ফেলে। একথা সকলের জানা যে মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার না করতে পারলে সেগুলি স্থির হয়ে যায়। পরিনামে আমরা নানান ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হই।

আমাদের জীবনের বড় একটি অংশ এখন ডিজিটাল। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লব। এখানে আমরা একই সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। আমরা এখন ঘরে বসেই নানান কিছু শিখে ফেলছি। কোনও নতুন দক্ষতা অর্জন বা কোনও নতুন বিষয় সম্পর্কে সন্ধান করা হোক না কেন, উইকিপিডিয়া, ইউটিউব এবং গুগল অনুসন্ধান করে শিক্ষা নেওয়ার একটি ভাল সুযোগ রয়েছে আমাদের। কিন্তু এটি শেখার এবং ভালভাবে জানার সেরা উপায় নয়। উইকিপিডিয়াতে বা ইউটিউব টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে কোনও বিষয় সম্পর্কে আমরা কাজ চালানোর মতো শিক্ষাটি নিতে পারি কিন্তু সামগ্রিক শিক্ষা কখনই নয়। অন্তত সেই সময়টি এখনও আসেনি।

ধরা যাক আপনি ভারতের স্বাধীনতা বিপ্লব সম্পর্কে জানতে চান। সেক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ায় পড়া তথ্য, বা অন্য কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ধারনা পাবেন মাত্র। ভারতের স্বাধীনতা বিপ্লবকে সত্যই বুঝতে এবং একটি সম্পূর্ণ ধারণা পেতে আপনাকে একাধিক বই পড়তে হবে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বই পড়তে হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে ইন্টারনেটে বিশেষ করে গুগল এখন বই ও তাঁর লেখকের স্বাধীন বক্তব্যটিকে বিবেচনা না করে বইকে ডাটা সোর্স হিসেবে দেখছে। এই সমস্ত তথ্যের সংমিশ্রণ আমাদের একটি ধারনা দেয় মাত্র কিন্তু প্রাণ দেয় না। আমাদের এটা মনে রাখা উচিত যে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা সবকিছু করতে পারি, তার অর্থ এই নয় যে আমাদের সবকিছু করা উচিত।

মানুষ ক্রমাগতভাবে বই পড়া ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু বই পড়া, বিশেষত উপন্যাসগুলি; আমাদের চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধি বৃদ্ধির অন্যতম সেরা উপায়। বই কেবল আমাদের জীবনকে প্রতিবিম্বিত করে না; বই আমাদের কল্পনাকে করে প্রসারিত। আমরা যখন বই পড়ি তখন এটি আমাদের একশত ভাগ মনোযোগ দাবি করে এবং আমাদের অন্য একটি জগতে বিচরণের ক্ষমতা দেয়। বই আমাদের নিজেদের এবং সাথে অন্যের জগতকেও স্পষ্টতার সাথে দেখতে বুঝতে সাহায্য করে। কল্পনাকে প্রসারিত করার জন্য একটি ভাল উপন্যাস বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তবে একটি উপন্যাস পড়তে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। সেই সুযোগ ক্রমাগতভাবে কমছে। মানুষের বাস্তব ও কল্পনার জগৎকে কেন্দ্র করেই উপন্যাস রচিত হয়। মানুষের জীবনধারা, সমাজ পরিপ্রেক্ষিত, আদর্শ, উদ্দেশ্য, প্রত্যয়—সমস্ত ব্যাপারই উপন্যাসের পটভূমিকায় কখনও প্রত্যক্ষভাবে, কখনও-বা পরোক্ষে নানা ধরনের রং-রস-ভাব সৃষ্ট করে। যার মূল উপাদান হল মানুষের বাস্তব জীবন, তাঁর না না, সমস্যা, সংশয়, নানা ভাব, কল্পনা, আদর্শের বিচিত্র সমারোহ।

অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের বিভ্রান্ত করে, এরই মধ্যে বই পড়াও বেশ চ্যালেঞ্জিং। এটি এমন একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যা আমাদের কল্পনাশক্তিকে বুদ্ধির সাথে সংযুক্ত হতে দেয় না। লেখকের জগতের সাথে পাঠককে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হতে বাধা দেয়। পরিত্রানের পথ খোঁজার কাজটা এখনই করতে না পারলে বড্ড দেরি হয়ে যাবে। আমি কোন গবেষক নই, আমি আমার উপলব্ধিটুকু শুধু জানাতে পারি। নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন পড়ি, পড়ে কি হয়? বই কেন পড়ি, এটা একটা বিস্ময়। কেন পড়ি, পড়ে কি হয় এমন কথার সদুত্তর দেওয়া চলবেই কিন্তু পড়ার দরজাটা, জানালাটা বন্ধ হলে চলবে না। আমার নিজের কাছে যেমন, যিনি লিখছেন তাঁর কাছেও তাই। কেন পড়ি? এক টুকরো বাধাই করা কাগজ, তাঁর মধ্যে কালো কালি দিয়ে লেখা অক্ষরগুলির সঙ্গে আমার চেতনার কি যোগ? এই কালো কালো অক্ষরগুলির মধ্যে আমার প্রাণের ভাষা কোথায়? পড়ার এই ইচ্ছাই বা তৈরি হলো কেমন করে? সজ্ঞানে কি জানি, কি পড়ছি? কোনটা পড়বো, কোনটা নয়? পড়া কি কেবল আমার খুশি? কাল আমাকে পড়ায়। স্বভাব আমাকে পড়ায়। বই পড়াটা আমার অভ্যাস। আমি যদি সামান্য কিছু মানবতাবোধ অর্জন করতে পারি তাহলে আমার অস্তিত্বের সঙ্গে পড়ার গূঢ়যোগ রয়েছে। পড়ার আরও অনেক প্রাসঙ্গিক, আনুসাঙ্গিক কারণ রয়েছে। কিন্তু এই ফেসবুকে দুকথায় বলা অসম্ভব। পড়ার অভ্যাসটি কিভাবে তৈরি করবেন সেটি নিয়ে ভাবুন।

টলস্টয় মনে করতেন যে তাঁর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি তাঁর লেখালেখি নয়, বরং তাঁর প্রতিদিনের পাঠ। তিনি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘প্রতিদিনের নিয়মিত অধ্যয়ন হলো দিনের শুরুতে একটি পৃষ্ঠা পড়া, যা ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।‘ প্রতিদিনের অধ্যয়ন সমস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয়। টলস্টয় স্বপ্ন দেখেছিলেন যে বছরের প্রতিটি দিনে পড়ার জন্য একটি জ্ঞানগর্ভ বই লিখবেন যেখানে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক এপিকেটাস, মার্কাস অরেলিয়াস, লাও-তজু, বুদ্ধ, এমন সমস্ত লোকের লেখা থাকবে। দুর্ভাগ্য টলস্টয় এমন একটি বই লিখে যেতে পারেন নি। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না, ‘প্রতিদিনের নিয়মিত অধ্যয়ন হলো দিনের শুরুতে একটি পৃষ্ঠা পড়া,' এই কথাটি মাথার মধ্যে গেঁথে নিয়েছি। অনেক তো শুনলেন আমার বকবকানি এবার নিজের প্রতি সুবিচার করুন, হাতের ডিভাইসটি রেখে একটি বই বাছাই করুন এবং আপনার মননকে সমৃদ্ধ করুন।
দীর্ঘদিন প্রবাসে বাস করে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার কারণে ডায়াস্পোরা সাহিত্য একটু একটু বুঝি। মোজাফফর যখন ডায়াস্পোরা নিয়ে নানান পত্রিকায় লেখা শুরু করলো তখন থেকেই কৌতুহল বশত তার এই লেখাগুলোয় উঁকি ঝুঁকি চলত। এখানেই বলে রাখি মোজাফফর আমার দৃষ্টি কেড়েছে সেই তার ‘মসজিদ‘ ছোটগল্পটি থেকে। তার যেকোন বিষয়ে লেখা সরল গদ্য আমাকে টানে। ‘আমি কত পণ্ডিত‘ এই প্রবনতা তার লেখায় আমি কখনো পাইনি, হয়ত এটাই ভালোলাগার কারণ।‘ দক্ষিণ এশিয়ার ডায়াসপোরা সাহিত্য‘ বইটি প্রকাশিত হয়েছে সবেমাত্র। আমার কাছেও বইটি কাকতালীয়ভাবে দ্রুত পৌঁছে যায়। বিষয় বস্তু অনুযায়ী বইটির কলেবর ১৭৭ পাতা একটু হতাশ করেছে। অনেক বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ রয়ে গেল। পরবর্তী সংস্করণে সে আশাপূরণের অনুরোধ জানিয়ে রাখলাম। বইটির শিরোনামে যেহেতু দক্ষিণ এশিয়া শব্দটি রয়েছে তাই বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়ার অন্যান্য দেশের অংশটি আরোও বিস্তারিত আশা করেছিলাম। ডায়াস্পোরা আমার কাছে নতুন কোন বিষয় নয় তাই আগ্রহের সবটুকু গিয়ে পড়লো বাংলাদেশ পর্বে। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ডায়াসপােরা সাহিত্য নিয়ে এর আগে এমন লেখা চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিহারি ডায়াসপােরা, বাংলাদেশে রােহিঙ্গা ডায়াসপােরা ও দেশভাগােত্তর ডায়াসপােরা সাহিত্য অংশটি। বিহারি ও রােহিঙ্গাদের পর্যালোচনা এবং প্রশ্নগুলো বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। সিনেমা দেখে আনন্দের বহির্প্রকাশ যেমন তেমনি মোজাফফরের এই চ্যাপ্টার গুলো পড়ে হাততালি দিয়েছি। নির্জন রাতে পড়তে পড়তে একসাইটেড হয়ে গেছি। লাবনীকে (আমার স্ত্রী) বলতে শুনেছি "পেয়েছে এতদিন পরে একটি বই"। বইটি এক বৈঠকে পড়া তাই কিছু বিষয় একটু খটকা রয়েছে (আমার অজ্ঞতা)। পুনঃপাঠে হয়ত বিষয়গুলো পরিস্কার হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ বইটি বাংলাদেশের পাঠকদের চিন্তায় দোলাদেবে বলে আমার বিশ্বাস।

পাঞ্জেরী পাবলিশার্স
২০১৯
৩২৫ টাকা


নিঃসঙ্গতার জীবনী

আমাদের কল্পনা করতে ভালেলাগে যে নিঃসঙ্গতা সর্বজনীন। আসলে তা নয়। লেখক নিঃসঙ্গতাকে আধুনিক যুগের একটি বহুমুখী পণ্য হিসেবে দেখছেন। আমরা সাধারণত ধারণা করে থাকি যে বার্ধক্যে অনিবার্যভাবে আসানিঃসঙ্গতা একটি স্বাভাবিক বিষয়। এর বাইরেনিঃসঙ্গতার কারন হিসেবে নতুন প্রযুক্তির উপর দোষারোপ করার পরিবর্তে আমাদের নিঃসঙ্গতাকে লেখক ঐতিহাসিক ভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন।

আলবার্তি মনে করেন, যে নিঃসঙ্গতার সাথে আমাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিতি রয়েছে তা কয়েকশো বছর আগেও ছিল অপরিচিত। বর্তমানে শব্দটি একটি নতুন অর্থ গ্রহণ করেছে।

নিঃসঙ্গতার জীবনী বইটিতে ফে বাউন্ড আলবার্তি এমন একটি ধারণার ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন যা আজকের সময়ে বেশ মৌলিক বলে মনে হলেও এটি প্রায় ১৮০০ সালের দিকে উদ্ভাবিত একটি ধারনা।

সাহিত্য, সোশ্যাল মিডিয়া এবং কুইন ভিক্টোরিয়া সহ নানান ধরনের কেস স্টাডিজে আলবার্তি এই আধুনিক ধারণাকে পুনরায় মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন সাথে এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

বইটিতে মূলত কয়েকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে;

* একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতার আদি এবং বর্তমান ধারনার মধ্যে পার্থক্য।
* Millennials দের একাকীত্ববোধের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে আসলেই দোষ দেওয়া যায় কিনা?
* নিঃসঙ্গতার উত্থানের জন্য কি কি দায়ী এবং এগুলো থেকে পরিত্রাণের উপায়।



Read & Return

আমেরিকা তো একটা মহাদেশ। এদেশের এয়ারপোর্টের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এর মধ্যে সাধারন মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত প্রায় ৫০০০। তার মধ্যে আনুমানিক ৫০০টি এয়ারপোর্টে কমার্শিয়াল প্লেন চালাফেরা করে। এয়ারপোর্ট কেন্দ্রিক যেকোন ব্যবসা বেশ লাভজনক। Read & Return তেমনি একটি ব্যবসা। তবে এটা বই পড়ানোর ব্যবসা। সাধারণ ভাবে যাত্রীরা এক এয়ারপোর্ট থেকে বই ভাড়া নেবেন এবং অন্য এয়ারপোর্টে ফেরত দেবেন। এতে করে চলতি পথে কম খরচে বই পড়া হলো।

No photo description available.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভাবতে পেরেছিলেন সেই ১৯১১ সালে অথচ আমরা ২০২০ সালেও সেটি পারি না।

এসাে হে আর্য, এসাে অনার্য,
হিন্দু মুসলমান।
এসাে এসাে আজ তুমি ইংরাজ,
এসাে এসাে খৃস্টান।
এসাে ব্রাহ্মণ শুচি করি মন
ধরাে হাত সবাকার,
এসাে হে পতিত করাে অপনীত
সব অপমানভার।
...সবারে-পরশে-পবিত্র-করা
তীর্থনীরে।
আজি ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz