আইজাক বাসেভিস সিঙ্গার, ১৯৭৪ সালে সাহিত্য নোবেল পান। নিজের মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসায় তিনি নিচের কথাগুলো বলেন।
People ask me often, 'Why do you write in a dying language?' And I want to explain it in a few words.
Firstly, I like to write ghost stories and nothing fits a ghost better than a dying language. The deader the language the more alive is the ghost. Ghosts love Yiddish and as far as I know, they all speak it.
Secondly, not only do I believe in ghosts, but also in resurrection. I am sure that millions of Yiddish speaking corpses will rise from their graves one day and their first question will be: "Is there any new Yiddish book to read?" For them Yiddish will not be dead.
Thirdly, for 2000 years Hebrew was considered a dead language. Suddenly it became strangely alive. What happened to Hebrew may also happen to Yiddish one day, (although I haven't the slightest idea how this miracle can take place.)
There is still a fourth minor reason for not forsaking Yiddish and this is: Yiddish may be a dying language but it is the only language I know well. Yiddish is my mother language and a mother is never really dead.

এক কৃষকের পোলা, যে পোলার সান্নিধ্য আমাকে পরিবর্তিত করেছে। জীবনের দর্শনটি নতুন করে বুঝতে শিখিয়েছে। আমরা যখন কোন কাজ করি তখন কোন না কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়েই তা করি। অনেক ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্য হয়ত আমাদের সামনে সাময়িক ভাবে অনুপস্থিত থাকে কিন্তু একসময়ে তা ঠিকই সামনে চলে আসে। ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধে উঠে যিনি মানুষের কল্যানের জন্য জ্ঞান বিতরন করেছেন সেই সরদার ফজলুল করিমের কিছু কথা না বলে পারছি না।
সরদারের বড় ভাই মঞ্জে আলী সরদার ছিলেন অতিশয় ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, রমজান মাসের ৩০টি রোজা পালন করতেন বিনা ব্যতিক্রমে। বালক সরদার নিজেও গ্রামের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন, তেলাওয়াত করতেন সুলললিত কষ্ঠে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল মীর মোশাররফ হোসেনের বিষাদসিন্ধু থেকে তার আবেগাপুত আবৃত্তি। বাড়ির লোকেরা, বিশেষত বোনেরা প্রায়ই বালক সরদারকে ডেকে বলতেন, ‘করিম, বিষাদসিন্ধুর ওই জায়গাটা পড় তো ভাই! বড় সুন্দর পড়িস তুই! চারধারে মাটির ঘরবেষ্টিত ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন উঠানে বিষাদসিন্ধু খুলে বসতেন বালক সরদার। কারণ আবেগমিশ্ৰিত সুরে পাঠ উপাখ্যান ।
এহেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়ে সরদার ফজলুল করিম কী করে সাম্যবাদের আদর্শে দীক্ষা পেয়েছিলেন সে কথা বলতে গিয়ে সরদার প্রায়ই বলেন জনৈক মোজাম্মেলের কথা। বরিশাল জেলা স্কুলে সরদার যখন নবম-দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন একদিন সেই সহপাঠী বন্ধু মোজাম্মেল (রেভুলেশনারি সোস্যালিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া বা আরএসপিআই’র কর্মী ছিলেন কিশোর মোজাম্মেল । পরবর্তীকালে সুপরিচিত সাংবাদিক মোজাম্মেল হক, ১৯৬২ সালে কায়রোতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত) তাকে একটা বই পড়তে দিয়েছিলেন। বইটি পড়তে দেওয়ার সময় মোজাম্মেল নাকি সরদারকে বলেছিলেন, ‘করিম, তুমি বড়ো গুড বয়। কিন্তু এত গুড বয় হওয়া কোনো কাজের কথা না। খালি ক্লাসের বই মুখস্থ করলে হইব না। এই বইখানা পড়ো! এক রাতের মধ্যে পড়ে শেষ করতে হবে । খবরদার। কেউ যেন না জানে!" সে বইয়ের ছিল না মলাট । কোথাও না ছিল বইয়ের না লেখকের । ফোলিওর যে জায়গায় বইয়ের নাম লেখা থাকে, প্রত্যেকটি পাতার সে জায়গায় ঘনকালো কালিতে মুছে দেওয়া হয়েছে বইয়ের নাম। সরদার সারা রাত জেগে পড়েন সে বই পড়তে পড়তে এক অভূতপূর্ব রোমান্টিক জগতে পদার্পণ ঘটে কিশোর সরদারের। অবশ্য পড়ার নেশা তাকে ইতোমধ্যেই পেয়ে বসেছিল। বরিশাল জেলা স্কুলে পড়ার সময় তিনি যে হোস্টেলে থাকতেন, সেখানে রাত দশটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকটি ঘরের বাতি নিভিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু ঘুম আসত না কিশোর সরদারের চোখে, তিনি বই নিয়ে হোস্টেলের দেয়াল টপকে চলে যেতেন জাহাজঘাটে। সেখানে স্ট্রিটল্যাম্পের আলোয় বসে বসে পড়তেন রাজ্যের যত বই।
২০০৬ সালের দিকে একবার সুযোগ হয়েছিল স্যারের সাথে বসে ৫ দিন ব্যাপী এক দীর্ঘ আড্ডার। সেই আড্ডা রেকর্ড করা সম্পূর্ণ অংশ আজও আমার কাছে আছে, মাঝে মাঝে দেখি পর্দায় স্যার ভেসে ওঠেন কি সাবলীলভাবে অনর্গল কথা বলে যান। তিনি বলেন, ‘মানুষ হচ্ছে একটি বই, বই তোমাদের কাছে যাবে না, তোমাকে বইয়ের কাছে যেতে হবে’। ‘এখানে সাধারণরা অসাধারণ, অসাধারণরাই সাধারণ। তোমাদের নিচ থেকে উপর দিকে তাকাতে হবে। উপর থেকে নিচে নামা সহজ। কিন্তু নিচ থেকে উপরে ওঠা কঠিন। এ বোধ তোমাদের আনতে হবে’। ‘মৃত্যুকে তোমরা ভয় করিও না। বাংলাদেশে মৃত্যু certain এবং বেঁচে থাকা Uncertain. মানুষকে মেরে শেষ করা যায় না। কচুরিপানা থেকেও মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ী’। ‘তোমাকে কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ দিতে হবে যে তুমি ধর্মান্ধ বিরোধী। আর মোকাবিলা করতে হবে কর্মের মাধ্যমে’। ‘পুঁজিবাদের সঙ্কটকেই তিনি মুক্তবুদ্ধি চর্চার বাধা হিসেবে দেখান। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীকী সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদেরকে মহাসমুদ্রে (মহাসঙ্কটে) ফেলা হচ্ছে, সেখানে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি অথচ সাতার শিখবার মতো শিক্ষা আমাদের দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেছিলেন, ‘সবসময় মনে রাখতে হবে, মানুষকে মেরে শেষ করা যায় না। যে মারে সেই মরে। আর যে মরে সে মরে না’ । কথাগুলো কেন যেন আজ বেশি বেশি মনে পড়ছে। আমাদের মূল সমস্যা শিক্ষা ব্যবস্থায়, যার পরিবর্তন না আনলে আমাদেরকে হয়ত আরো মার খেতে হবে।

গতকাল (এপ্রিল ৩০, ২০১৮) নিউ ইয়র্ক টাইমসে কার্ল মার্ক্সকে নিয়ে লিখেছেন জেসন বারকার। শিরোনাম, "শুভ জন্মদিন, কার্ল মার্কস। আপনি সঠিক ছিলেন!" জেসন বারকার একাধারে একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা, লেখক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কিউং হি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক। তিনি কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি লিখেছেন, "The key factor in Marx’s intellectual legacy in our present-day society is not “philosophy” but “critique,” or what he described in 1843 as “the ruthless criticism of all that exists: ruthless both in the sense of not being afraid of the results it arrives at and in the sense of being just as little afraid of conflict with the powers that be.” “The philosophers have only interpreted the world, in various ways; the point is to change it,” he wrote in 1845."
আরও, "Racial and sexual oppression have been added to the dynamic of class exploitation. Social justice movements like Black Lives Matter and #MeToo, owe something of an unspoken debt to Marx through their unapologetic targeting of the “eternal truths” of our age. Such movements recognize, as did Marx, that the ideas that rule every society are those of its ruling class and that overturning those ideas is fundamental to true revolutionary progress."
Marx, ...does not offer a one-size-fits-all formula for enacting social change.
উপসংহার টেনেছেন এই বলে যে, "To cite Marx, “No social order is ever destroyed before all the productive forces for which it is sufficient have been developed, and new superior relations of production never replace older ones before the material conditions for their existence have matured within the framework of the old society.”
The transition to a new society where relations among people, rather than capital relations, finally determine an individual’s worth is arguably proving to be quite a task. Marx, as I have said, does not offer a one-size-fits-all formula for enacting social change. But he does offer a powerful intellectual acid test for that change. On that basis, we are destined to keep citing him and testing his ideas until the kind of society that he struggled to bring about, and that increasing numbers of us now desire, is finally realized."

এই কথাগুলোই আমরা কিছুদিন আগে মার্ক্সের মৃত্যুদিবসে নিচের এই ভিডিও আলোচনায় আলাপ করেছিলাম যে মার্ক্স মরে নি, আইডিয়ার কখনো মৃত্যু হয় না। 


https://www.youtube.com/watch?v=MAmHx65IICw

নিউ ইয়র্ক টাইমসের উল্লেখিত লেখাটির লিঙ্কঃ https://www.nytimes.com/2018/04/30/opinion/karl-marx-at-200-influence.html

আমাদের আলোচনার অন্যান্য ভিডিও দেখার আমন্ত্রণ রইলো এই লিঙ্কেঃ
https://www.boierhut.com/youtube

ঢাকা মানেই আমাদের কাছে প্রথমেই বেলাল চৌধুরী
রিটন খান

২০১৭ সালে বেলাল চৌধুরীর বই নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়-এর ডিজিটাল সংস্করণের জন্য তাঁর অনুমতি নিতেই ঢাকায় গিয়েছিলাম জানতাম উনি প্রায় অসুস্থ থাকেন, তাই বিমানবন্দরে নেমেই তাঁর ছেলে প্রতীকের সাথে যোগাযোগ করে খোঁজ নিলাম কবি কেমন আছেন ভাগ্যিস কবি সেদিন একটু সুস্থ ছিলেন

দেরি না করে সেদিনই সন্ধ্যার পর কবির বাসায় যাই অনেকক্ষণ কবির সাথে নানান বিষয় কথা হয়, যদিও উনি বলছিলেন অনেক কম, শুধু মুখ এক ধরনের দুষ্টুমিপূর্ণ হাসিতে উদ্ভাসিত রেখে শুনছিলেন আমার সব কথা আমি একে একে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম কেন বাংলা সাহিত্যের আর্কাইভিং জরুরী, -বুকের প্রয়োজনীয়তা, ইত্যাদি নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায় বইটির -বুক সংস্করণের জন্য উনি সানন্দে অনুমতি দিয়েছিলেন আমি কবির হাত ধরে বসেছিলাম অনেক ক্ষণ 

প্রথাবিরোধী জীবনযাপন, কৃত্তিবাস-এর মত একটি পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও প্রচুর ভালো কবিতা লিখে গেছেন কবি বেলাল চৌধুরী। ছন্নছাড়া জীবনযাপনের জন্য বন্ধুমহলে বেশ নাম ছিল তাঁর।

কবিতা সিংহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, “…ঢাকা মানেই আমাদের কাছে প্রথমেই বেলাল চৌধুরী। তার অনেক পরে শেখ মুজিবুর রহমান বেলাল নাকি গাঁজা চণ্ডু চরস খায়। শ্মশানে বসে থাকে। খুব বড় বড় ব্যবসাদার মিনিস্টার সিউডো ইন্টালেকচুয়াল তার তাঁবে। বেলাল এসবেরও প্রতিবাদ করত না, মিটমিটি হাসত। বহু মহিলা বেলালের জন্য পাগল। তাই বেলালকে ঘিরে রহস্য। বেলালকে ঘিরে জল্পনা কল্পনা। কিন্তু সামনে এলেই, রবীন্দ্রনাথের অতিথি গল্পের সেই তারাপদকে মনে পড়ত। সেই পবিত্র অনাসক্ত অনঘ বালকটি।

কবি শামসুর রাহমান কবি বেলাল চৌধুরী সম্পর্কে বলেছিলেন, তরুণ কবিকর্মী ও সংস্কৃতিসেবীদের মুখে মুখে ফেরে যে কবির নাম তিনি বেলাল চৌধুরী। আজ গার্হস্থ্যের তাবুতে আশ্রয় নিলেও এক সময় প্রথাবিরোধী জীবনযাপনের মাধ্যমে তিনি এক কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন

পঞ্চাশ দশকের অনেকের স্মৃতিচারণেই জানা যায় যে বেলাল চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের এক জাহাজে করে পালিয়ে কলকাতায় চলে আসেন কোন জাদুর সম্পর্শে তিনি সম্পূর্ণ অচেনা এক বিশাল শহরের হৃদয় জয় করে ফেলেছিলেন সেটি তাদের বোঝানো যাবে না, যারা তখনকার বেলাল চৌধুরীকে দেখেনি তাঁকে নিয়ে অনেক গল্প চালু ছিল।

About me

I am a big fan of Books and internet security. I am passionate about educating people to stay safe online and how to be a better book reader.
If you are interested then you can add me to your Social Media. You will also see the occasional post about a variety of subjects.

Contact

Name

Email *

Message *

Instagram

© Riton's Notes
riton.xyz